হোম » ট্রাম্পের কিছু কাজ, যা শঙ্কিত করে

ট্রাম্পের কিছু কাজ, যা শঙ্কিত করে

গাজীউল হাসান খান- Tuesday, November 29th, 2016

পুঁজিবাদ পরবর্তী ‘সবুজ অর্থনীতির’ যুগসন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিছিয়ে পড়া কয়লাখনি চালু এবং খনিজ তেল অবাধে উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় ‘জীবাশ্ম অর্থনীতির’ মাধ্যমে উচ্চ মজুরিসহ প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে চান ট্রাম্প। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ স্বাক্ষরিত ‘ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তিও বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ চুক্তি নিয়ে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে যথেষ্ট বিরোধিতা ছিল। এ চুক্তি থেকে স্বাক্ষরিত দেশগুলোর তুলনায় সেসব দেশের (যুক্তরাষ্ট্রসহ) বহুজাতিক বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানই বেশি লাভবান হবে বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প চান যুক্তরাষ্ট্রের বহির্বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি। তিনি গণচীনসহ বিভিন্ন শিল্পসমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষি করতে চান। তাতে ভিন্ন ভিন্নভাবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রতিপত্তি খাটানো অনেক সহজ হবে বলে ট্রাম্প মনে করেন। টিপিপি ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি, কিন্তু সম্প্রতি পেরুতে সমাপ্ত টিপিপি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ সব নেতাই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বহাল রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী টিপিপি বাণিজ্য চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলে তা সম্পূর্ণ অসার হয়ে পড়বে বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে ওঠা এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে যে একটি বৈশ্বিক পদ্ধতি তৈরি হয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাতে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য বা নেতৃত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে চীন ও জাপান যে নতুন পন্থা অবলম্বন করবে তাতে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত ফল নাও পেতে পারে। তা ছাড়া নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (নাফটা) পুনর্বিন্যাস করার কথাও বহুবার উল্লেখ করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার ‘ওয়াল স্ট্রিটে’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু বলতে বিশেষ কেউ আছে বলে মনে হয় না। পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চান ট্রাম্প। তাতে অবশ্য সাধারণ মানুষ খুশিই হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে একটি যে পরিপূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন, সেটা করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কতটুকু সম্ভব হবে তা বলা অত্যন্ত দুঃসাধ্য ব্যাপার। কারণ ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপ বা ঘোষণার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী বহু চিন্তাভাবনা এবং দ্বিধাদ্বন্দ্ব। তিনি খনি শ্রমিকদের উচ্চ মজুরিসহ প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান। কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে মজুরি নির্ধারণের জন্য ট্রাম্পের সদিচ্ছাই একমাত্র উপায় নয়। তার জন্য চাই শ্রমিকদের সংগঠন বা ট্রেড ইউনিয়ন। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরি রিপাবলিকান দলীয় পরলোকগত প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। ট্রাম্পের মতো রোনাল্ড রিগ্যানই উচ্চকণ্ঠে প্রথম স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করতে চাই’ (ডব ধিহঃ ঃড় সধশব অসবৎরপধ মৎবধঃ ধমধরহ)। কিন্তু তিনিই (রিগ্যান) মুক্তবাজারের নামে পুঁজিবাদকে শোষণের ধারালো হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পও একজন পুঁজিপতি। বিনির্মাণ শিল্প (জবধষ ঊংঃধঃব) নিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ব্যক্তিগত, নীতিগত নয়। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প বেকার কয়লাখনি শ্রমিকদের জন্য আবার কাজের সুযোগ করে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চান অথচ যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে উন্নত পেশাজীবী শ্রেণি সৃষ্টি করার কথা তেমন বলছেন না। অর্থনীতি ও বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এখন তাঁর উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতাদের শেখানো কথা যতটা বলছেন এবং শুনছেন, পরবর্তী পর্যায়ে সে অবস্থায় ধৈর্য ধরে থাকবেন কি না বলা মুশকিল। কারণ ট্রাম্প নিজেকে একজন সর্বক্ষেত্রে পারদর্শী ব্যক্তি বলে মনে করেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান তাঁর জানা আছে। শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক এবং বিশেষ করে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে ট্রাম্পের মধ্যে শ্রেণিগতভাবে যথেষ্ট দম্ভের ভাব রয়েছে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনেই বিজয়ী হয়েছেন। এবং তাদের নিয়েই মূলত ‘আবার মহান আমেরিকা’ গড়ে তুলতে চান। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারী ভাব ও গোঁয়ার্তুমি তাঁকে খুব তাড়াতাড়িই সহকর্মীদের কাছ থেকে পৃথক করে ফেলবে। অবৈধ মেক্সিকান অভিবাসী কিংবা মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা, হিসপানিক ও লাতিনোদের প্রতি আপত্তিকর দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের তালিকাভুক্ত করার হীন পরিকল্পনা—কোনোটাই ডোনাল্ড ট্রাম্প বাদ দেননি। তবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের কারণে অনেক কিছুই আপাতত চেপে রেখেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মা ছিলেন যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের। তাঁর মা মেরি অ্যান ম্যাকলয়েড জন্মেছিলেন স্কটল্যান্ডের হেব্রিডিয়ান দ্বীপ লুইসে। আর তাঁর বাবা ফ্রেডেরিক ট্রাম্প ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত নিউ ইয়র্কের একজন বিনির্মাণ ব্যবসায়ী। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম হয়েছে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে। তিনি গ্র্যাজুয়েশনের পর তাঁর বাবার বিনির্মাণ পেশায় যোগ দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ইউরোপীয় পারিবারিক প্রেক্ষাপটের জন্য অত্যন্ত গর্ববোধ করেন। যে কারণে তিনি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন যুক্তরাজ্যে। তা ছাড়া তিনি গত সোমবার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক ও তাঁর নির্বাচন প্রচারকাজে সাহায্যকারী নাইজেল ফারাজকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত করে পাঠালে তিনি অনেক কাজ করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসামে এ ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তা ছাড়া হাউস অব কমন্সে এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব বরিস জনসন এবং কমন্সের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ক্রিসপিন ব্লান্ট বলেছেন, এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্যার কিম ডারোচ, যিনি এর আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের (প্রধানমন্ত্রীর অফিস) নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব বলেন, স্যার কিম একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল, যোগ্য ও সুনামের অধিকারী কর্মকর্তা। তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে গেছেন মাত্র এক বছর আগে। এ মুহূর্তে তাঁকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরানো সম্ভব নয় বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত স্যার ক্রিস্টোফার মেয়ার বলেছেন, একজন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুধু সঙ্গ দেওয়ার জন্য কাউকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো সম্ভব নয়। কারণ ব্রিটেনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূতকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়। তার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতার প্রয়োজন। উল্লেখ্য, নাইজেল ফারাজ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন সদস্য এবং ইউনাইটেড কিংডম ইনডিপেনডেন্ট পার্টির (ইউকিপ) অন্তর্র্বতীকালীন প্রধান। হাউস অব কমন্সে বর্তমানে এ দলের মাত্র একজন সদস্য রয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে ব্রিটিশ সরকার সম্মত না হওয়ায় তিনি অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়েছেন এবং বুঝতে পেরেছেন যে এভাবে কোনো নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের পক্ষে প্রস্তাব করা উচিত নয়। কারণ নাইজেল ফারাজ ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টি কিংবা সমাজের এমন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নন যে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা যায়।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রশাসনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাহীন ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পলিসি ও প্রটোকল সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন না। তাই তিনি প্রকাশ্যেই বলে ফেরেন যে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোর সঙ্গে তিনি বিশেষ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। যুক্তরাজ্য সম্পর্কে তিনি বিশেষ ধারণা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, বহু দিক থেকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এখনো অনেক ওপরে। লন্ডনে ফিরে আসার আগে আমি দুদিনের জন্য নিউ ইয়র্ক থেকে কানাডার টরন্টোতে গিয়েছিলাম। উইক এন্ড বা সপ্তাহ শেষে (১১-১২ নভেম্বর) কানাডার বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ‘টরন্টো স্টারের’ এক সাংবাদিক বন্ধু জিম পোলার্ডকে ফোন করি। উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা। কুশল বিনিময়ের পর জিম যে কথাটি বললেন, তাতে আমি মোটেই অবাক হইনি। তাঁর কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে এমন প্রেসিডেন্ট আর কখনো দেখেনি। ট্রাম্পের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলাবোধ নেই। সে কারণে তিনি কোনো প্রচলিত নিয়মকানুন বা রীতিনীতি মানতে চান না। তাঁর চরিত্রে যেটি নেই, প্রেসিডেন্ট হলেও তা সংযোজন সম্ভব নয়। সুতরাং অপেক্ষা করো বন্ধু, আমাদের জন্য আরো অনেক বিস্ময় অপেক্ষা করছে। লন্ডনে ফেরার পথে প্লেনে বসে সেসব কথাই ভাবছিলাম। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব কিছু অগ্রাহ্য করার বদভ্যাস। তিনি নিজে যা করেননি, তার সব কিছুই বদলে ফেলতে চান। তেমন একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ‘বিশ্ব পরিবেশ চুক্তি’। বছরের পর বছর আলোচনা, কিয়োটো থেকে রিও, তারপর শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বর ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে এক চুক্তি সম্পাদন করা হয়, যা ১৯৫টি দেশ অনুমোদন করেছিল। চুক্তি সম্পাদনের এক বছরের মধ্যে তা স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের কথা। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ এপ্রিল ২০১৬ সালের মধ্যে গণচীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৭৪টি দেশ নিউ ইয়র্কে বিশ্ব পরিবেশবিষয়ক সে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সে সময় এক ঘোষণায় বলে ফেললেন যে তিনি সে চুক্তি মানেন না এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি সে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সে অপরিণামদর্শী ঘোষণায় বিশ্বের পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বিপন্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষের মধ্যে এক চরম হতাশার ছায়া নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও গণচীনসহ বিশ্বের শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলোর অব্যাহতভাবে পরিবেশদূষণের কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুতে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানিরও উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে সমুদ্র উপকূলবর্তী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিম্নাঞ্চল নিমজ্জিত হয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তাতে দরিদ্র দেশের কোটি কোটি মানুষ হারাবে তাদের কৃষির জমি ও আবাসস্থল। তা ছাড়া আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী আরো বেড়ে যাবে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির তাণ্ডব। এ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশদূষণকারী দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, গণচীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলো। অথচ বিরূপ পরিবেশের শিকার হচ্ছে বিশ্বব্যাপী অগণিত উন্নয়নশীল দেশ, যারা দূষণের জন্য মোটেও দায়ী নয়। এ বিষয়টি যথাসময়ই উপলব্ধি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও গণচীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। সে কারণে তাঁরা উভয়ে এক সময়োপযোগী চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন বিশ্বের পরিবেশ উন্নয়ন ও তাপমাত্রা অন্তত ২ ডিগ্রি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগেই সে বৈশ্বিক পরিবেশ চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাতে প্রশ্ন উঠেছে, যে দেশ মুক্তবিশ্বের নেতৃত্ব দাবি করে এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিবেশদূষণ সৃষ্টি করছে তাকে বা তার নেতৃত্বকে বিশ্বের বিপন্ন মানুষ কিভাবে মোকাবিলা করবে? সে কারণেই বিশিষ্ট ব্রিটিশ সাংবাদিক জর্জ মনবিয়ট সম্প্রতি ‘দ্য গার্ডিয়ানে’ লিখেছেন, ট্রাম্পের পরিবেশ বিপর্যয়কে অস্বীকার বিশ্বে যুদ্ধবিগ্রহও ডেকে আনতে পারে।
লেখক : ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত সাবেক মিনিস্টার এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক