হোম » ‘টাকা ফেরত পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, সবাই পাবেন তো?’

‘টাকা ফেরত পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, সবাই পাবেন তো?’

admin- শনিবার, মার্চ ১৮, ২০১৭

ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার জরুরি অবস্থা জারি করলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা আদায় করে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের হিসাবে জমা দিয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বিভিন্ন মহল থেকে বাজেয়াপ্তকৃত ওই টাকা ফেরত দেয়ার প্রশ্নে নানা ধরনের মত ও যুক্তি উত্থাপিত হলেও স্বাভাবিক পন্থায় টাকাগুলো ফেরত দেয়া হয়নি। অতঃপর টাকা ফেরত চেয়ে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট ওইসব রিটের কয়েকটির নিষ্পত্তি করে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক আপিল করলে টাকা ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন। অবশ্য কতদিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার আগে তা জানা যাচ্ছে না।

স্মরণ করা যেতে পারে, ওয়ান-ইলেভেনের শীর্ষ ব্যক্তিরা মুখে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে তারা কায়েম করেছিলেন এক জবরদস্তিমূলক সরকার। এই জবরদস্তি তারা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই চালাননি, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই ধারা অনুসরণ করেছিলেন। বাছবিচারহীনভাবে তারা ব্যবসায়ী মহলকে হয়রানি করেছেন। চাপিয়েছেন তাদের ওপর দুর্নীতির অভিযোগ। সে সময় গোয়েন্দা সংস্থাটির কেউ কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পর্দার আড়ালে ঘটে যাওয়া সেসব নিপীড়নের সবটা উন্মোচন করা সম্ভব নয়। তবে যা দেখা গেছে তা হল, ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১২৩২ কোটি টাকা আদায় করে তারা সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় তারা কোনো আইন-কানুনের ধার ধারেননি। ঢালাওভাবে নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। ভুক্তভোগীদের অন্তত ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টের রায় ও সেই রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচারই পেয়েছেন। এখন যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের টাকা ফেরত পেলেই হয়। এ প্রসঙ্গে বলতেই হয়, আরও কিছু প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত চেয়ে যে রিট করেছিল, সেগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি এখনও। বাকি রিটগুলোরও দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টাকা যদি দুর্নীতিলব্ধ না হয়ে থাকে, তাহলে সেই টাকা বছরের পর বছর অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হবে- এটা চলতে পারে না।

দুর্নীতিলব্ধ কিংবা কর ফাঁকি দেয়া টাকার বিহিত করতেই পারে যে কোনো সরকার। কিন্তু কোনো সরকারই, তা সেটা হোক গণতান্ত্রিক কিংবা সামরিক- ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে অযথা হয়রানি করতে পারে না। এটা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বিচার বিভাগ ব্যবসায়ীদের মৌলিক অধিকারের প্রতি যতœবান এটা ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদ।

-যুগান্তর ভাষ্য