হোম » টাইটানিক : উদ্ধারাভিযানের কিছু বিরল ছবি

টাইটানিক : উদ্ধারাভিযানের কিছু বিরল ছবি

ঢাকা অফিস- Thursday, October 26th, 2017

টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর তোলা যাত্রীদের উদ্ধারাভিযানের কিছু বিরল ছবি নিলামে বিক্রি হতে চলেছে।

ছবিগুলো তুলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা আইনজীবী লুইস এম. অগডেন। ১৯১২ সালের এপ্রিল মাসে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্র পথে ইউরোপের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন তিনি। কারপাথিয়া নামে জাহাজের যাত্রী ছিলেন তারা।

১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল শেষ রাতে উত্তর আটলান্টিক সাগরে বিশাল বরফস্তূপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পুরোপুরি ডুবে যায় টাইটানিক জাহাজ। সেদিন টাইটানিক থেকে জরুরি সাহায্য চেয়ে কারপাথিয়ায় বার্তা পাঠানো হয়েছিল। বার্তা পেয়ে টাইটানিক ডোবার স্থানের দিকে আসে অগডেনদের জাহাজ।

টাইটানিকের যেসব যাত্রী বেঁচে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে যারা ছোট ছোট নৌকায় (লাইফবোট) উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের অনেককে কারপাথিয়ায় উঠিয়ে নেওয়া হয়। সেদিন ক্যালিফোর্নিয়া নামে আরেকটি জাহাজ উদ্ধারের জন্য এসেছিল। ভয়াবহ সেই সময়ের কিছু ছবি অগডেনের ক্যামেরায় বন্দি হয়, যেগুলো আজ ইতিহাসের অংশ।

টাইটানিকের যাত্রীদের নিয়ে কারপাথিয়ার দিকে এগিয়ে আসা লাইফবোটের কিছু ছবি তুলেছিলেন অগডেন। এর মধ্যে রয়েছে ৬ নম্বর লাইফবোট, যার যাত্রী ছিলেন মারগারেট ব্রাউন। সাহসী এই নারী নিজেই লাইফবোটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ আসার অপেক্ষা করছিলেন। এ ছাড়া লাইফবোট নিয়ে অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে তা ব্যর্থ হয়। তবু তার এ প্রচেষ্টা চির স্মরণীয় হয়ে আছে।

অগডেনের তোলা সেইসব বিরল ছবি বৃহস্পতিবার বোস্টন-ভিত্তিক নিলাম হাউস রিমার্ক্যাবল রেয়ারিটিস নিলামে তুলবে।

উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক সমুদ্র ভ্রমণের ইতিহাসে টাইটানিক-ডুবি বিশ্বে সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ২ হাজার ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় এটি। জাহাজটি তৈরিতে সেই সময় খরচ হয়েছিল সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।