টঙ্গীর জোড়া খুন : মূলহোতাসহ ৫ খুনি গ্রেপ্তার

টঙ্গীর চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচ খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব সদস্যরা।

সোমবার রাতে র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সাভার থানার ডেন্ডাবর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- টঙ্গী এরশাদনগরের জোড়া খুনসহ ২০ মামলার আসামি এবং ৩৪ বছর দ-প্রাপ্ত আসামি এরশাদনগরের ৪ নং ব্লকের মৃত তমিজ উদ্দীন শেখের ছেলে কামরুল ইসলাম ওরফে কামু, টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকার জালাল হোসেনের ছেলে মো. মোবারক হোসেন (৩২), এরশাদনগর ৬ নং ব্ল¬ক এলাকার মো. রুস্তম আলীর ছেলে মো. সাগর (২০), ৪ নং ব্লকের মোস্তফার ছেলে মো. নাজমুল (১৮) ও একই ব্লকের রহম আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫)।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জোড়া খুনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, মাদকের টাকা ভাগাভাগি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি নিয়ে নিহত শরীফ প্রভাব খাটিয়ে কামুকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। এই হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে ঘটনার কিছু দিন পূর্বে কামরুল তার সহযোগী হিরা, নাজমুল, মোহাম্মদ আলী, রাসেল, সাগর এবং শামীমকে নিয়ে শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। নিহত শরীফ নারীর প্রতি দুর্বল থাকায় একটি মেয়েকে দিয়ে ফাঁদ পেতে তারা শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

কামুর সহযোগী হীরা একটি মেয়েকে ঘটনার রাতে সেখানে নিয়ে আসে। সে অনুযায়ী ঘটনার রাত ১২টার দিকে হীরা নিহত শরীফকে ফোন দিয়ে বলে একটা মেয়েঘটিত ব্যাপার আছে এবং শরীফকে তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে আসতে বলে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হাসান ও শামীম রাত সাড়ে ১২টার দিকে শরীফের বাসায় মাদক সেবনের পর শরীফ ও জুম্মনসহ বের হয়ে আসে। তারা মসজিদের সামনে এলে কিলিং মিশনের আরো দুই সদস্য সুমন এবং জালালের সঙ্গে দেখা হয়। তখন হাসান, মোবারককে ফোন দিয়ে জানায়, তারা মোল্ল¬¬-াবাড়ির মাঠে আসছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে বলে। শরীফ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলা অবস্থায় কামুর সহযোগীরা শরীফকে ঘিরে ফেলে। জুম্মন সে সময় একটু দূরে অবস্থান করছিল। এক পর্যায়ে মোবারক শরীফকে ডেগার দিয়ে পেটের আঘাত করে এবং হীরা চাপাতি দিয়ে গলা বরাবর সজোরে কোপ দেয়। এ সময় অন্য আসামিরাও শরীফকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। শরীফকে কোপানো দেখে জুম্মন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ইয়াছিন, নাজমুল ও সাগর জুম্মনকে ধাওয়া করে মোল্ল¬¬াবাড়ির গেটে জুম্মনকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।

র‌্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে গতরাতে টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকার আলিম মিয়ার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত তিনটি সামুরাই ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

উল্লে¬খ্য, র‌্যাব কর্তৃক গত ১৬ মে গ্রেপ্তার আসামি কাজল এবং সোনিয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

You Might Also Like