ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি, শিশুসহ নিখোঁজ ৫

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে রোববার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্যে পড়ে একটি নৌকাডুবি হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পড়ুয়া দুই শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজদের উদ্ধার করতে অভিযান চালাচ্ছে।

নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে চারজনের নাম জানাতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকার রফিক (৩০), একই এলাকার তানিম (৮), তালাইমারী এলাকার আসাদুল (৩০) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ঝিকরগাছা এলাকার আহাদ (১০)। অপরজনের নাম জানা যায়নি।

রাজশাহী সদর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশু তানিম ও আহাদ দরগাপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র। রোববার বিকেলে তারা নৌকায় চড়ে দরগাপাড়া এলাকার পদ্মার ওপারে চরে গিয়েছিল। সন্ধ্যার একটু আগে আবহাওয়া খারাপ হয়ে উঠলে একটি নৌকা তাদের আনতে যায়। ওই নৌকায় দরগাপাড়া এলাকার রফি (২৮) ও রাশেদ (৩২) নামের দুই ব্যক্তিও ছিলেন। নৌকাটি মাঝিসহ সাতজনকে নিয়ে এপারে ফিরছিল। এক পর্যায়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এরপর রকি ও রাশেদ সাঁতরে তীরে উঠলেও দুই শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ থাকেন।

ফরহাদ হোসেন জানান, ঘটনার পর রকি ও রাশেদকে অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তারা সুস্থ হলে সোমবার সকাল ৮টা থেকে তাদের নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তারা নৌকা ডোবার স্থান চিহ্নিত করেন। এখন ডুবুরিরা দরগাপাড়া এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

তিনি জানান, এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১১টায় খবর পাওয়ার পর সারারাত সার্চ লাইট দিয়ে নৌকাটি খোঁজ করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে নৌকাটি পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।

রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ওই সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে গোদাগাড়ী উপজেলায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ে বহু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আম ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।