জয়নব ধর্ষণ ও হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে সাত বছরের একটি শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ইমরান আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সে দেশের একটি আদালত।

শনিবার পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) লাহোরের সাত বছরের শিশু জয়নব আনসারি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ইমরানকে (২৪)মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি মোট ৩০ লাখ রূপি জরিমানা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশও দিয়েছেন।

বিবিসি ও ডন জানিয়েছে, গত মাসের শুরুর দিকে কাসুর শহরে শিশু জয়নব আনসারিকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। জয়নবকে হত্যার অভিযোগে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়।

আদালত তাকে এই চারটি অপরাধে পৃথকভাবে চারটি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে যাবজ্জীবন ও ১০ লাখ রূপি জরিমানা করা হয়। আর হত্যার পর মৃতদেহ লুকিয়ে রাখার অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে ভিকটিমের পরিবারকে দশ লাখ রুপি দেওয়ার জন্য আসামিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাবেন ইমরান।

গত ৪ জানুয়ারি কাসুরে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় জয়নাব। পরে জানা যায়, মক্তবে কোরআন পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে সে অপহৃত হয়। ৯ জানুয়ারি তাদের বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটি ময়লার স্তূপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। জয়নবের বাবা-মা সে সময় দেশে ছিলেন না। তারা সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়েছিলেন। পরে মেয়ের মৃত্যুর খবরে তারা দেশে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় পাকিস্তান জুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জয়নবকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা বলা হয়। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ইমরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পর ইমরান শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর তার পক্ষের আইনজীবী আইনি লড়াই থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

নিরাপত্তার জন্য লাহোরের কেন্দ্রীয় কারাগার কোট লাখপাতে বিশেষ আদালত বসিয়ে জয়নব ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। শিশুটির বাবা রায় ঘোষণা সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ৫৬ প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি নেওয়ার পর আদালতের বিচারকরা ধর্ষক ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। আদালতের কাছে শিশু জয়নব ছাড়াও কাসুরের আরো ছয় শিশুকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন ইমরান।

You Might Also Like