জেরুসালেমের পর কি মক্কা?

মূল: সা’দাত ওরুক অনুবাদ: মাসুমুর রহমান খলিলী : জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেয়া অত্যন্ত উত্তেজক সিদ্ধান্তের পর বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ইসরাইলের দখলীকৃত অঞ্চলকে প্রসারিত করার প্রচেষ্টা এখন আগের তুলনায় আরো প্রবলভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেছে। ইসরাইলের ইংরেজি দৈনিক হা’র্টজ এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধ ছিল এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকতা বা বুদ্ধিবৃত্তিক রচনার চাইতেও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ কিছু। নিবন্ধ অনুযায়ী সৌদি আরবের দক্ষিণ অঞ্চলে ২০১৪ সালে সৌদি ও ফরাসি দলের যৌথভাবে পরিচালিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা প্রতিবেদনের সারাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, এর লক্ষ্য হলো সৌদি আরবে ইহুদি শিকড়কে “নিশ্চিত করা”।

ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে বিবেচনা করে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সেখানে স্থানান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি হবে পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন। আর এটি নেয়া হয়েছে বৈশ্বিক জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য সরকারি কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যে।

হা’র্টজের নিবন্ধটিতে বাদশাহ হবার জন্য অপেক্ষমান সৌদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সৌদি আরব এবং ইহুদি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রবল আগ্রহকে বিবেচনা করা হচ্ছে, ইসলামের পবিত্র ভূখণ্ডের হৃদয়জুড়ে ইহুদিদের তথাকথিত শেকড় আবিষ্কারের চেষ্টা হিসাবে।

হা’র্টজের প্রত্নতাত্বিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “ইসলামের আগে: সৌদি আরব ছিল একটি ইহুদি রা্জ্য”। এ ব্যাপারে বিশ্বকে প্রভাবিত করার জন্য সৌদি আরবের ৪৭০ খৃস্টাব্ধের ইসলাম পূর্ব সময়ের প্রাচীনতম এক আরবি লেখা আবিষ্কার করার কথা বলা হয়,যার মধ্যে স্পষ্টতই খ্রিস্টীয় ও ইহুদি প্রেক্ষাপটে কিছু আতঙ্কসৃষ্টিকারী বিষয় রয়েছে।

রিপোর্টটিতে মুসলিম সংবেদনশীলতা এবং এমনকি ইসলামী ইতিহাসের নির্ভুলতাও বদলাতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়। এতে বলা হয়, “প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার দ্বারা এমন একটি কাঠামো আঁকা হয় যা ছিল বেশ একটি বিব্রতকর বিষয় কিন্তু ফরাসি-সৌদি যৌথ কাজটি শান্তভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল”।

সুতরাং, এই প্রশ্ন ওঠতে পারে যে, ইসরাইল কি মুসলিম বিশ্বের উপরে ইহুদিদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে ইসলামী বিশ্বের উপর অধিপত্য বিস্তার করতে চায়? এমনকি এটি শুরু করতে চায় মক্কা বা মদিনা থেকে? চলমান জেরুসালেম নিয়ে অস্থির অবস্থার মধ্যে এই প্রশ্নটি আরো অর্থবহ হয়ে ওঠছে। তাই এখনই মুসলিম বিশ্বের একমাত্র বিকল্প হল ইহুদি রাষ্ট্রের বাস্তব অভিপ্রায় সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

জেরুসালেম থেকে মক্কা এবং মদিনা পথযাত্রা শুরু করা হয়ে থাকতে পারে।

আর মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকান নীতির মূল প্রণেতা হোয়াইট হাউসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ও ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা জারড কুশনারের পরিকল্পনায় ইসরাইলের কার্যক্রমের পাশাপাশি সৌদি বাদশাহ হবার উত্তরাধিকারী মনোনীত যুবরাজের নেয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপের আলোকে মুসলিম বিশ্বের মক্কা এবং মদিনা পবিত্র শহরগুলির ব্যাপারে দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত।

এখন জেরুসালেম রক্ষার প্রচেষ্টা হলো একই সাথে মক্কা এবং ইসলামের নীতি ও মূল্যবোধ রক্ষারও প্রচেষ্টা।

তুর্কি দৈনিক সাবাহ থেকে অনুবাদ মাসুমুর রহমান খলিলী : ফেসবুক থেকে নেয়া

You Might Also Like