জেএমবি-উলফা অর্থ লেনদেন ও অস্ত্র কেনার চুক্তি!

আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফন্ট অব আসামের (উলফা) মধ্যে জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জিএমবি) যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাটির দাবি, জেএমবি ও উলফার মধ্যে অর্থ লেনদেন ছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্র কেনার বিষয়েও অলিখিত চুক্তি হয়েছে। আসামে আটক জেএমবির এক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এ তথ্য পেয়েছে এনআইএ।

মঙ্গলবার কলকাতার দৈনিক বর্তমান পত্রিকা এ খবর দিয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, সেভেন সিস্টার্স খ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে জেএমবি তাদের কার্য়ক্রম বিস্তারের জন্য উলফার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মূলতঃ সিমির (স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া) সদস্যরাই উলফার সঙ্গে কাজ শুরু করেছিল। উলফা কিভাবে তাদের সাহায্য করবে, এই নিয়ে উলফার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সিমির বেশ কয়েকজন সদস্যের কথাবার্তার তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারী সংস্থাটির কাছে। উলফার মাধ্যমেই অন্যান্য জায়গায় বিস্ফোরক পাচারই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

আসাম পুলিশের ডিজি খগেন শর্মা জানান, ‘‘জেএমবি’র সঙ্গে উলফার যোগাযোগের বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। আটক জেএমবি’র সদস্যকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য আমাদের হাতেও এসেছে। সেগুলি যাচাইয়ের কাজ চলছে।’’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ছয় জেএমবি সদস্যকে আটক করে আসাম পুলিশ।

তদন্তকারীদের সূত্রের বরাত দিয়ে বর্তমান লিখেছে, উলফার প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তি, যাদের বাংলাদেশে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াত রয়েছে, তাদের সিমি সদস্যরা বিদেশ থেকে টাকা পয়সা আনা নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে শুরু করে। বাংলাদেশ থেকে জেএমবির পাঠানো এই টাকার একটি বড় অংশ উলফার তহবিলেও গেছে। যা দিয়ে তারা নতুন অস্ত্র কিনেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, উলফার আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা জেএমবির কয়েকটি প্রশিক্ষণ শিবির ঘুরেও দেখেছে। জেএমবির মাধ্যমে কোনো বিস্ফোরক ভারতে ঢুকেছে কি না, তা তদন্ত করছে এনআইএ।

বর্তমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক জেএমবির সদস্য শফিকুর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সিমির সদস্যরা অসমে বেশ সক্রিয়। তারা উত্তরবঙ্গের জেলা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঢুকছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্ধমান জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত জেএমবির সদস্যদের সঙ্গে সিমির ঘনিষ্ঠ যোগায়োগ রয়েছে। সম্প্রতি জেএমবি সিমিকে দ্বায়িত্ব দেয় উত্তর-পূর্ব স্লিপার সেল গড়ে তোলার জন্য। মূলত আসামের যুবক-যুবতীদের মধ্য থেকেই জেহাদি নিয়োগের গুরুত্ব দেয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এ কাজের জন্য সিমি আসামের উলফার সাহায্য নিতে শুরু করে। ইতিমধ্যে উলফার বিভিন্ন ক্যাম্পে জেএমবি’র সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। উলফা নেতারা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

You Might Also Like