জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: খালেদার জামিন শুনানি শেষ, আদেশ পরে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষ হলেও হাইকোর্ট আজ জামিন মঞ্জুর করেন নি।

মামলার শুনানী শেষে, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম পাঁচ মিনিট নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। এর পর জানান, ‘নিম্ন আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেয়া হবে।’

এ প্রসংগে বিএনপি দলীয় আইনজীবি ব্যারিষ্টার এ কে এম ফখরুল ইসলাম রেডিও তেহরানকে বলেন, এর আগে বৃহস্পতিবার এ আদালতই ১৫ দিনের মধ্যে মামলার নথি পাঠাতে নিম্ন আদালতের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তা পেলেই পরবর্তী নির্দেশ পাওয়া যাবে।

দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন চাওয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে জামিন আবেদনের আর্জি করেন তার আইনজীবীরা। শুনানিতে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীও জামিনের বিরোধিতা করেন।

২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য আবেদন গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। পাশাপাশি স্থগিত করেন তার অর্থদণ্ড।

ওদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান এই আদেশ দেন।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, অন্য একটি মামলায় আসামি বেগম খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। তাই তাঁকে আদালতে হাজির করার জন্য হাজিরা পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলাম। তাঁকে আদালতে হাজির করার পরোয়ানা জারি করা হোক।

অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান আদালতকে বলেন, “জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। ওই মামলায় আজ খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিও রয়েছে। তাই আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা পরোয়ানা না ইস্যু করে শুনানি মুলতবির আবেদন করেছি।”

রেজাক খান জানান, আজ পর্যন্ত খালেদা জিয়া এই মামলায় জামিনে আছেন। তাঁর জামিন বর্ধিত করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিশেষ জজ আদালত আগামীকাল পর্যন্ত এই মামলার শুনানি মুলতবি রেখেছেন এবং আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন।

You Might Also Like