জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ওয়াশিংটন টাইমস’র নিবন্ধে যা লিখেছেন জয়

প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি ‘জামায়াতে ইসলামী’কে একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে ‘যুক্তরাষ্ট্র’কে আহ্বান জানিয়েছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন টাইমস’এ লেখা এক প্রবন্ধে তিনি এ কথা বলেন। তার লেখা ‘আনমাস্কিং টেরোরিস্টস ইন বাংলাদেশ’ (Unmasking terrorists in Bangladesh) শীর্ষক নিবন্ধটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
‘ভয়ংকর ইসলামী রাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র এলাকার বালির মধ্যে সীমানা বিন্যস্ত করেছে এবং এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিশ্বের নিকট গুরুতর হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা এবং পরাজিত করার জন্য, শীর্ষ মার্কিন আইন প্রনেতাগণ ও নির্বাহি শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ নতুন জোট গঠন করে কৌশলে একটি ওভারটাইম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ একটি মুসলিম জাতি, সর্বদা দেশে উৎপাদিত সন্ত্রাসী সংগঠন এবং বিদেশি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বদা কাজ করেছে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গর্বিত মিত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে সবার জন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের প্রাথমিক ও প্রধান অপরাধী সংগঠক হচ্ছে মৌলবাদী ইসলামী দল ‘জামায়াতে ইসলামী’।
সম্প্রতি পুলিশ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি দুই তলা অ্যাপার্টমেন্ট অভিযান চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত ২০টি ককটেলের বিস্ফোরক ডিভাইস, ২৫টি বাঁশের মুগুর এবং জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত চরমপন্থী সাহিত্য (জিহাদি বই) আবিষ্কার করে। পুলিশের বর্ণনানুযায়ী, বিস্ফোরক গুলো খুবই শক্তিশালী এবং এ ধরনের বিস্ফোরক দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামের সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এই বিস্ফোরকগুলো বিশেষত নিরিহ বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই ইসলাম ধর্মের পবিত্র ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহার দিন। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ডিভাইসগুলি বিশেষভাবে পোশাক শ্রমিকসহ নিরপরাধ মানুষের উপর হামলার জন্য তৈরি করা হয়েছিলো। পুলিশ বলেছেন, মুসলিম ধর্মের পবিত্র দিন ও ছুটির ঈদ-উল-আযহায় হামলার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
শান্তিকামী বেসামরিক মানুষের উপর আঘাত হানা ‘জামায়াতে ইসলামী’র জন্য নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় থেকে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিকভাবে ঘন ঘন এবং নির্মমভাবে সহিংসতা চালিয়ে আসছে দলটি। তারা পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ৩মিলিয়ন মানুষকে জবাই ও ১০ মিলিয়ন মানুষকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করেছে এবং ২০০০০০ নারীর সম্ভ্রমহানি করেছে, সম্প্রতি বানচাল হওয়া সন্ত্রাসী চক্রান্তের পরিকল্পনা জামায়াতের গত কয়েক বছরের চরমপন্থী সহিংসতারই ধারাবাহিকতা। চার ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষক বিস্মিত হননি এ কারণে যে, খুন হওয়া এই ব্লগারদের বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দোষী সাব্যস্ত জামায়াত নেতাদের যুদ্ধাপরাধের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে লেখালেখি করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর দেশব্যাপী বোমা শত শত শিশুসহ অনেক লোক নিহত হয়েছে।
সম্প্রতি বিস্ফোরক পাওয়ার ঘটনায় ১৩ জন জামায়াত নেতা আটক হয়েছেন, এদের মধ্যে সংসদের দুই সাবেক উচ্চপদস্থ সংসদ সদস্যও রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, এই সংসদ সদস্যরাই কার্যত জামায়াতকে এখন চালাচ্ছেন। এটা যদি সত্য হয়, তবে দেশ যে বৈধ রাজনৈতিক দলের মুখোশে মৌলবাদী সংগঠনের কবলে পড়েছে, সে বিষয়ে অতিরিক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই চরমপন্থী দল ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়েদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ করে আল কায়েদার প্রধান নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি বাংলাদেশিদের দক্ষিণ এশিয়ায় ‘জিহাদের পতাকা ওড়ানো‘র আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে খতিয়ে দেখছে।
জামায়াতের নেতৃত্ব তার সংগঠনটির লক্ষ ও উদ্দেশ্য থেকে কখনই সরে আসতে চেষ্টা করেনি। জামায়াত ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো তরুণ শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। যে সংগঠনকে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে, সেই আল কায়েদার মতো জামায়াতও যে কোনো মূল্যে উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাইছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলির একটি স্থিতিশীল প্রয়োজন, সন্ত্রাস মুক্ত দক্ষিণ এশিয়া। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ আইন দ্বারা পরিচালিত বাংলাদেশ এ ব্যাপারে এ অঞ্চলের জন্য একটি বাতিঘর হিসাবে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক পরিসর বাড়ার কারণে বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট শক্তিশালী, তাই দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশেরই থাকা উচিত। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জামায়াত ইসলামীকে একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে দ্বিধা করা উচিত নয়’।

You Might Also Like