জাতি আজ চরম সংকটে: ড. কামাল

জাতি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তা ও গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
ড. কামাল বলেন,৯০ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর স্বেচ্ছাচারী শাসন এবং প্রধান বিরোধী দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার পরিবর্তে লাগাতার সংসদ বর্জন ও নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় জাতি আজ এ অবস্থায় পড়েছে।
প্রবীণ এ রাজনীতিক ও আইনজীবী বিবৃতিতে বলেন,২০০১ সালে নির্বাচিত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসন দেশকে এক অরাজকতাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়। পরবর্তীতে জন-আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন,২০০৮ সালে নির্বাচিত সরকারের নিকট জনগণের প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের পরিবর্তে দুর্নীতি ও দুঃশাসন অব্যাহত রাখে। জনগণের ম্যান্ডেট গ্রহণ না করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে নিজেদের দলীয় সরকারের অধীনে ও নিয়ন্ত্রণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে জাতি নতুন রাজনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়। দেশ আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। দেশব্যাপী অনেক সহিংস ঘটনা ঘটে এবং অনেক জীবন ও সম্পদ ধ্বংস হয়।
ড. কামাল অভিযোগ করেন, গত এক বছরে ‘নিয়ম রক্ষার সরকার’ সংলাপ সমঝোতার মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির পরিবর্তে চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চলাফেরা ও সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতাসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে কার্যত অস্বীকার করেছে। ৫ জানুয়ারি বর্ষপূতি উপলক্ষে ক্ষমতাসীন সরকার ও ২০ -দলীয় জোট পুনরায় পরস্পরবিরোধী অসুস্থ ও নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু করেছে, যা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক নয়। ২০ -দলীয় জোটকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে না দেওয়ায় দেশব্যাপী অবরোধ-হরতালের ডাক দিয়েছে। একদিকে যাত্রীবাহী গাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ পুড়িয়ে মারছে; অন্যদিকে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং গুলিবর্ষণ করেও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে।
ড. কামাল হোসেন সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, এনজিও সংগঠন, নারী সংগঠন, শ্রমজীবী-পেশাজীবী সংগঠনসহ সবাইকে ‘৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতির ভিত্তিতে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

You Might Also Like