জাইকার সহায়তায় ৬৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন

গ্যাসলাইন সম্প্রসারণে সহযোগিতা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। এ অর্থে ধনুয়া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন হচ্ছে। ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও অন্যান্য কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দিচ্ছে ৫০৭ কোটি এক লাখ টাকা, সরকারের নিজস্ব তহবিলে ৪৬৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের নিজস্ব তহবিল থেকে সাত কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য এস এম গোলাম ফারুক এ বিষয়ে জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্পটির ওপর গত বছরের ২৯ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত প্রতিপালন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিভিন্ন কারখানায় গ্যাস সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে- এ বিবেচনায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তা অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়-নলকা-হাটিকুমরুল-ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা (৩০ ইঞ্চি ব্যাস সম্পন্ন ১০১ কিলোমিটার) পর্যন্ত উচ্চচাপ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন মূল প্রকল্পের অংশ ছিল। কিন্তু বৈদেশিক সহায়তার অভাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত হতে নলকা পর্যন্ত উচ্চচাপ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন অংশটির কাজ সমাপ্ত করা যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা, টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর ও কালিহাতি এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সায়দাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৬৪ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপন, ছয়টি নদীর তলদেশে এইচডিডি পদ্ধতিতে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের দুই কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, তিনটি মিটারিং স্টেশন স্থাপন, সিপি সিস্টেম স্থাপন, স্কাডা সিস্টেম স্থাপন এবং ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়নসহ অন্যান্য পূর্ত কাজ।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন-অনুমোদনহীন প্রকল্পের তালিকায় এ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাইকার সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

You Might Also Like