জর্ডানকে হারাল বাংলাদেশ

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই কেউ একজন জাতীয় পতাকা হাতে মাঠে ঢুকে পড়েন। গর্বের লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাসে মাতোয়ারা বাংলাদেশের মেয়েরা। সত্যি ওদের হাতেই বিজয় কেতন শোভা পায়! একটু আগেই যে শক্তিশালী জর্ডানকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে মনিকা চাকমারা।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ প্রমীলা চ্যাম্পিয়নশিপে যে জর্ডান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, সেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশকে হতাশায় ডুবিয়েছে বাংলার মেয়েরা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের কাছে অপ্রত্যাশিত হার মেনে নিতে না পেরে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়ে জর্ডানের ফুটবলাররা।

বিপরীতে জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত মনিকা চাকমা-সানজিদা আক্তাররা। বাংলাদেশের পক্ষে মহামূল্যবান গোলটি পেনাল্টিতে করে সানজিদা। জর্ডানের মতো দলকে বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে হারানোর ফলে চীনের টিকিট পাওয়ার স্বপ্নটা দেখতেই পারে গোলাম রব্বানী ছুটনের দল। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতে পারলে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের।

অনূর্ধ্ব-১৬ প্রমীলা চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ভালো খেলে সমর্থকদের মন জয় করা। বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত অল্পসংখ্যক দর্শকের মন ঠিকই জয় করেছে কৃষ্ণা রানী-বিপাশারা। শুরুতেই ইতিবাচক ছিল স্বাগতিকরা। যখনই বাংলাদেশের মেয়েদের পায়ে বল যায়, তখনই গ্যালারি থেকে উৎসাহ দিতে থাকেন দর্শকরা। শক্তি এবং র‌্যাংকিং সব বিভাগেই জর্ডানের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

এই জর্ডানের কাছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেয়েরা ৬ গোল হজম করেছিল। এদিন তারই প্রতিশোধ নিল মনিকারা। প্রথমার্ধেই বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। জর্ডানকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। ভালো ফিনিশিং না হওয়ায় গোল পায়নি স্বাগতিকরা। বিশেষ করে সানজিদা ও কৃষ্ণা রানী কয়েকবারই ডি-বক্সের মধ্যে বল নিয়ে ঢুকে পড়ে। কিন্তু জর্ডানের জালে বল পাঠাতে পারেনি তারা।

বিরতির পরও চিরচেনা বাংলাদেশ। ৯০ মিনিট দম রাখার মতো সামর্থ্য নেই- এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে উৎফুল্লই মনে হয়েছে বাংলার মেয়েদের। তাদের মধ্যে ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। একসঙ্গে আক্রমণে গিয়ে আবার প্রয়োজনের সময় সবাই নিচে এসে দলকে বিপদমুক্ত করে। গোলরক্ষক আয়েশাও ছিল দুর্দান্ত। কয়েকটি দারুণ সেভ করে সে।

স্টাইকাররা গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিটে বদলি হিসেবে লিপিকে মাঠে নামান কোচ রব্বানী। তাতেই আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশের। সে আক্রমণের ফল আসে ম্যাচের ৭০ মিনিটে। লিপি বল নিয়ে জর্ডানের ডি-বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়লে প্রতিপক্ষ দলের জিনা আমজাদ হানি বক্সের মধ্যে লিপিকে ফেলে দেয়। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে আগেই গোলের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে পেনাল্টি শুট নিতে আসা সানজিদা হতাশ করেনি দলকে।

নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্র্রথম পেনাল্টিতে গোল করে জয়ের নায়ক বনে যায় সে। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করে কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সানজিদা – পেনাল্টি নেওয়ার আগে আমি ভয় পাইনি। আমি সব সময় এক পাশ দিয়ে পেনাল্টি মারি, এবারও তাই করেছি। দলের জয়ে আমি খুশি। এ জয়টা দেশের মানুষকে উৎসর্গ করেছি।’

সানজিদার মতো উচ্ছ্বসিত কোচ গোলাম রব্বানীও। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগেই হেরে যাবেন না। লড়াই করবেন। সে কথা মনে করে রব্বানী বলেন, ‘জর্ডান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে; আজ আমরা তাদের হারিয়েছি। এটা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য অন্যরকম একটা দিন।’

You Might Also Like