হোম » জনগণের কাছে যারা অধিক গ্রহণযোগ্য তারাই মনোয়ন পাবেন: ওবায়দুল কাদের

জনগণের কাছে যারা অধিক গ্রহণযোগ্য তারাই মনোয়ন পাবেন: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস- Saturday, October 21st, 2017

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনের আগে যথাসময়ে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। জনগণের কাছে যারা অধিক গ্রহণযোগ্য তারাই দলের মনোয়ন পাবেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপাতত মনোনয়ন নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবেন না। এখন সুসংগঠিতভাবে দলকে ঐকবদ্ধ করে কাজ করুন। আমাদের প্রতীক হচ্ছে নৌকা আর নেত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা।
ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার স্থানীয় রেজিস্ট্রারি মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কারা মাঠে কাজ করছেন, কার জনপ্রিয়তা কতটা। বিরোধী দলগুলোরও খোঁজখবর নিচ্ছি আমরা। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন খুব নিকটবর্তী। যিনি নির্বাচনের মাঠে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাই হবে।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুলের নির্বাচন সংক্রান্ত এক বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আওয়ামী লীগ ২৫টি সিটও পাবে না। অহংকার করবেন না। আপনি কিভাবে সিট বন্টন করেন। ভোটের মালিক জনগণ। এটা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান লন্ডনে বসে দেশের বিরুদ্ধে নীলনকশা করেছেন। একে একে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখছে। ভোট লন্ডনে হবে না, ভোট হবে বাংলাদেশে। অচিরেই বিএনপির খুশিতে ভাটা পড়বে।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় বিএনপি মনে করেছিল এ বিষয়টি সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে। আর এ সুযোগে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে। সেটাও তাদের ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গা আশ্রয় বিষয়ে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এখন দেশ-বিদেশে তুঙ্গে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধি অপশক্তি কেউ এ সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না। এক্ষেত্রে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের নবাগত সদস্যদেরকে দলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে মোট ভোটারের অর্ধেকই হচ্ছে নারী। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদেরকে সদস্য করে আওয়ামী লীগে অন্তর্ভূক্ত করাই এ সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে ঘরে বা অফিসে বসে নয়; গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি সফল করে তোলার জন্য তিনি আহবান জানান।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দু’চারজন সন্ত্রাসীর কারণে দলের এবং সরকারের অর্জন ম্লান হতে পারে না। শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সন্ত্রাসী, খুনি যেই হোক; এসব কর্মকাণ্ডে সামনে বা নেপথ্যে যেভাবেই থাকেন তাদের রেহাই নেই। এসব অপরাধমূলক কর্মকা-ের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের মধ্যে বিরোধ নয়, বিভক্তি নয়; আদর্শ ও দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে জাতির পিতার কন্যা, বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুদৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।