জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলায় সতর্ক চট্টগ্রাম পুলিশ

দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা জঙ্গি সদস্যরা সংগঠিত হয়ে পুনরায় হামলা চালাতে পারে আশংকায় চট্টগ্রামে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে জেএমবির বোমা হামলার ১০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে নাশকতা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হচ্ছে নিরাপত্তা বলয়। সে সাথে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।

শুরু থেকেই জঙ্গি তৎপরতার চারণভূমি হিসেবে চিহ্নিত এ চট্টগ্রাম। আফগান ফেরত হরকাতুল জেহাদের শক্ত ঘাটি যেমন ছিলো, তেমনি দ্রুত উত্থান ঘটেছিলো জেএমবি’র। এর মাঝে বিগত ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট শুধুমাত্র নগরীর ২০টি স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। এরপর একাধিকবার পুলিশ এবং বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছিলো তাদের হাতে। কিন্তু দীর্ঘ এক দশকেও ধরা যায়নি অনেক জঙ্গি সদস্যকে।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) প্রকৌশলী বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘যে সব জঙ্গি বাইরে আছে আমাদের কাছে তার তালিকা আছে। এগুলো নিয়ে আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ চলে। তাদের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়।’

১৭ আগস্ট দেশব্যাপী জেএমবির বোমা হামলার ১০ বছর পূর্তি। সে সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার ১১ বছর হবে আগামী ২১ আগস্ট। আর দু’টি বিশেষ দিনকে সামনে রেখে জঙ্গিরা সংগঠিত হতে পারে আশংকায় নেয়া হয়েছে আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার বলেন, ‘এ দিনটিকে কেন্দ্র করে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছি এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’

জঙ্গি তৎপরতার প্রথম দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি এবং রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায় অনেকগুলো জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং গোপন আস্তানা। তবে পুলিশের দাবি, কঠোর নজরদারীর কারণে বর্তমানে এ অঞ্চলে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো গুটিয়ে নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় মোট ২৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি মামলা নিষ্পত্তি হলেও ৪টি মামলা গত দশ বছরেও শেষ করা যায়নি। আর এসব মামলায় আসামী হিসেবে রয়েছে বোমারু মিজান এবং জাবেদ ইকবালের মতো শীর্ষ জঙ্গি সদস্যরা।

You Might Also Like