ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রসার শিক্ষক আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি মাদ্রসার তত্ত্বাবধায়ক ও শিক্ষকের তৃতীয় শ্রেণীর (১২) এক শিক্ষার্থীকে শরীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ শহরের কলেজপাড়া এলাকার নাদিয়াতুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও নাদিয়া কিন্ডার গার্টেনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কলেজপাড়া এলাকাবাসী আইদুল ইসলাম নামে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তবে মাদ্রাসার তত্ত্ববধায়ক আনোয়ারুল পলাতক রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই শিশুটির কসবা উপজেলার খাড়েরা গ্রামের শিশুটির বাবা গরীব হওয়ায় ২০১৩ সালে মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্ডেনের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করেন।

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজপাড়া এলাকার নাদিয়াতুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও নাদিয়া কিন্ডার গার্টেন থেকে ওই শিক্ষার্থী দৌঁড় দিয়ে বের হয়ে যায়। ওই সময় মাদ্রাসার শিক্ষক আইদুল চোর বলে চিৎকার দিয়ে মেয়েটির পিছু নেয়। কলেজপাড়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের তাজুল ইসলাম ছাত্রবাসের পেছনের এলাকার স্থানীয় মুদি দোকানদার জামাল মিয়ার দোকানে গিয়ে মেয়েটি আশ্রয় নেয়। তখন মাদ্রসার শিক্ষক স্থানীয় লোকজন মেয়েটিকে উদ্ধার করে জামাল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং মাদ্রাসার শিক্ষক আইদুলকে আটক করে।

মেয়েটি জানায়, মাদ্রাসার তত্ত্ববধায়ক আনোয়ারুল বারি ও তাঁর স্ত্রী তাকে স্কুলে পড়তে দেয় না। তারা সারাদিন তাকে ঘরে নানা কাজ করায়। কাজ না করলে তাকে মারধর করে। বুধবার দুপুরে আনোয়ারুল বাড়ির স্ত্রী তাকে ভাত ও সবজি রান্না করতে নির্দেশ দেয়। একই সাথে বাড়ির কয়েকটি কক্ষের পরিষ্কার করতেও বলে তাকে। রান্নার সময় সবজি পুড়ে গেলে তত্ত্বাবধায়কের স্ত্রী তাকে মারধর শুরু করে। তিন বছর ধরে তাঁরা নানাভাবেই শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। এছাড়া প্রায়ই আইদুল আলম তার উপর যৌন নির্যাতন চালাতো বলেও অভিযোগ করে শিশুটি।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You Might Also Like