ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে হ্যাকিং নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জার্মানির হামবুর্গে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের ফাঁকে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন এই দুই নেতা। গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পুতিনের সঙ্গে এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম বৈঠক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ এবং সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, সিরিয়া ও ইউক্রেন পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় তাদের মধ্যে।

বিবিসি জানিয়েছে, বৈঠকে তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন দুনেতার মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, হ্যাকিংয়ে রাশিয়া জড়িত ছিল না পুতিনের এ বক্তব্য মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে টিলারসন বলেছেন, এটি পরিষ্কার নয়, সে সময় যা ঘটেছিল সে বিষয়ে দুনেতা একমত হয়েছেন কি না। অবশ্য দুদেশের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে এরকম কিছু এড়িয়ে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প।

রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে নিজের জন্য ‘সম্মানের’ বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করতে পেরে আমি আনন্দিত।’ এর আগে শুক্রবার সকালে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাতে ট্রাম্প ও পুতিনকে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়। এরপর তাদের মধ্যে আরও দীর্ঘ আলোচনা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানায়, দুই নেতার মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের বৈঠক হয়েছে, যা হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৩০ বা ৪০ মিনিট। আর রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গিবাদ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন এই দুই নেতা।

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে। আমরা অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলাম। আমাদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ইউক্রেন সংকট, সিরিয়া পরিস্থিতিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।’

প্রসঙ্গত, জি-২০ সম্মেলনে অংশ নিতে হামবুর্গ সফরে রয়েছেন ট্রাম্প ও পুতিন। শুক্রবার প্রথমবারের মতো দুই নেতার বৈঠক শুরুর আগে ফটোসেশন করেন তাঁরা। এ সময় দুই প্রেসিডেন্ট ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

You Might Also Like