ছাত্রলীগের নির্বাচনেও জাল ভোটের অভিযোগ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিনেও জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে এই ভোটার তালিকায় অনিয়মেরও অভিযোগ উঠেছে।
রোববার ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ভোটগ্রহণ হয়।
নিয়মানুযায়ী ছাত্রলীগের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে ২৫ জনের একটি প্রতিনিধি (ডেলিগেট) আসার কথা। সেই হিসাবে দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ২৫ জনের একটি প্রতিনিধি এসেছে। কিন্তু এই প্রতিনিধি দলে এমন একজনের নাম রয়েছে যিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র নন।
জানা গেছে, ওই ভোটারের নাম জাহিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
সাধারণত পদধারী নেতাদের ভোটার হওয়ার কথা। তবে জাহিদ কিভাবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটার হলেন তা নিয়ে ওই ইউনিটের কেউ মুখ খোলেননি।
এদিকে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে রংপুর বিভাগ দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই বিভাগের পঞ্চগড় জেলার ২৫ কাউন্সিলর প্রাথমিকভাবে ভোট দেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর সভাপতি পদে ১০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১২ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন সুমন কু-ু, শেখ রাসেল ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, এনামুল হক শামীম, নজরুল ইসলাম বাবু, ইসহাক আলী খান পান্না ও যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী।
শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যোগ্য ও মেধাবীদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে।
তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভোটের মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের পছন্দের প্রার্থীরাই এবারও নেতৃত্বে এসেছেন।
এদিকে জাতীয় কাউন্সিলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাকির হোসাইন। মিলনায়তনে ভোটগণনা শেষে সন্ধ্যার পর এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সভাপতি পদে সাইফুর রহমান সোহাগ পেয়েছেন ২৬৯০ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. জাকির হোসেন পেয়েছেন ২৬৭৫ ভোট।
৩ হাজার ১৩৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৮১৯ জন। সে হিসেবে শতকরা ৮৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ কাউন্সিলর ভোট প্রয়োগ করেছেন।
ছাত্রলীগের কাউন্সিল নিয়ে সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, কথিত সিন্ডিকেটের আসলে আলাদা কোনো ক্ষমতা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছেটা সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী বাস্তবায়ন করেন শুধু।
গণমাধ্যম শুধু শুধু লিয়াকত শিকদারকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করে। তবে এই প্রচারণার মধ্য দিয়ে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি হয়। লিয়াকত শিকদার যে অন্য অনেকের চেয়ে ক্ষমতাবান, তা বারবার প্রমাণ হয়।
সকল বিরুদ্ধ মত সরিয়ে তার অনুগতরাই শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এবারও তাই হলো এবং তা হলো একটি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। ভোটার তালিকা থেকে প্রার্থী ঘোষণা, সিন্ডিকেটের মেকানিজমটা কিন্তু চমৎকার!

You Might Also Like