ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকে পেটালেন কর্মীরা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতাকে বেধড়ক মারধর করেছে ঢাবি সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা। এছাড়া আরেক কেন্দ্রীয় নেতাকে হেনস্তা করেছে শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের নেত্রীরা।
শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিশীতা ইকবাল নদীর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় ও আরেক নেত্রীকে মারধরের ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুব খানকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাবির মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সারাদিন ঢাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। রাতে বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা রড, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শো ডাউন করে।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর দেড়টার দিকে শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিশীতা ইকবাল নদীর নেতৃত্বে ওই হলের কর্মীরা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাতকে হেনস্তা করে। এর পরপর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাহাতের অনুসারী মাহবুব খানকে মারধর করেছে সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোবারক হোসেনের অনুসারীরা। নদী ও মোবারক উভয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের অনুসারী।
গত ২৮ জানুয়ারি নিশীতা ইকবাল নদীর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন নদীর অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী ও চারুকলা ছাপচিত্র বিভাগের ছাত্রী ইসরাত জাহান সোনালী। যার খবর এর পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্র-বৃত্তি উপ-সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান বিপুলকে নিয়ে রিঙায় চড়ে টিএসসি থেকে শাহবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত। রিঙা শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরির সামনে পৌঁছলে তাদের গতিরোধ করেন নিশীতা ইকবাল নদীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা।
ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, নদী প্রথমে রাহাতকে বলেন, আপনি সাংবাদিকদের দিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট করাইছেন।
রাহাত বলেন, সাংবাদিকদের কাজ সাংবাদিকরা করে, আমি রিপোর্ট করাইতে যাব কেন? আর এ বিষয়ে কথা বলার জায়গা তো রাস্তা না। পার্টির কোনো ফোরামে বা মধুর ক্যান্টিনে এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ কথা বলে ওখান থেকে চলে যান রাহাত। এরপর নদী ও তার অনুসারীরা অনেক চিৎকার ও চেচামেচি করতে থাকেন।
এবিষয়ে নদী সাংবাদিকদের বলেন, আমি ওনাকে বলেছি, আপনি সাংবাদিকদের দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়েছেন তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। তিনি তার কোনো জবাব না দিয়ে চলে যান।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, নদীর অনুসারীদের সঙ্গে রাহাতের ঝামেলা হতে পারে এমন তথ্য পাওয়ার রাহাতের কয়েকজন অনুসারী শাহবাগের দিকে রওনা হন। এটা শুনে সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীরা গিয়ে মাহবুবের ওপর হামলা করে। তাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
রাহাতের অনুসারীদের অভিযোগ, সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি মোবারক নিজে উপস্থিত থেকে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তবে মোবারক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম না। ময়মনসিংহ এলাকার আমার ছোটো ভাইয়েরা সেখানে গিয়ে থাকতে পারে। আমি ছিলাম প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় বিচার চেয়ে শামসুল কবির রাহাত বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের বিষয় ফুটিয়ে তোলার জন্য এবং সংঘাতময় মুহূর্তে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিদেশ থাকা নিয়ে নানা সমালোচনাকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এদিকে, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম দেশের বাইরে থাকায় এ ঘটনায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, মারামারির ঘটনা তিনি শুনেছেন। এ ঘটনা তদন্তের পর যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You Might Also Like