‘চড় মেরে এমপি বলেন, শালা কান ধর’

স্বেচ্ছায় কান ধরে উঠ-বস করেছেন বলে এমপি সেলিম ওসমানের বক্তব্য শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে লাঞ্ছিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। তিনি জানান, সেদিন এমপি সেলিম ওসমান তাঁর দুই গালে দু’টি করে চারটি চড় মারেন। এরপর বলেন, ‘শালা কান ধর’। ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো কটূক্তি করেননি জানিয়ে শিক্ষক বলেন, সেদিনের পুরো ঘটনাই সাজানো।

আজ বৃহস্পতিবার খানপুর শহরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

সেদিন শিক্ষক স্বেচ্ছায় কান ধরে উঠ-বস করেছেন বলে এমপি সেলিম ওসমান আজ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে শিক্ষক বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। পুরো ব্যাপারটিই ছিল সাজানো। মসজিদের মাইকে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছিল। সভার কথা শুনে তিনি স্কুলে যান। কিন্তু গিয়ে দেখেন পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন আমাকে পেটায়। বিকেলে সেলিম ওসমান ঘটনাস্থলে আসেন। আমার শরীর তখন একেবারেই দুর্বল। যে ঘরে আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল, এমপি সেখানে ঢুকে কোনো কথা না বলে দু’টি করে চারটি চড় মারেন। লজ্জায় তখন আমার মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ঘর থেকে বের করে এমপি লোকজনের সামনে এনে শিক্ষককে বলেন, ‘শালা কান ধর। ১০ বার উঠ-বস কর।’ জীবন বাঁচাতে তা করতে বাধ্য হই।

কেন এ রকম ঘটনা ঘটলো—জানতে চাইলে শিক্ষক বলেন, আমি স্কুলটি দাঁড় করিয়েছি। কিছু লোকজন চাচ্ছিলেন আমি যেন স্কুলে না থাকতে পারি। তাঁরাই এই ষড়যন্ত্র করেন।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো কটূক্তি করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে শিক্ষক বলেন, আমি কোনো কটূক্তি করিনি। পুরোটাই সাজানো। স্কুল থেকে বের করতেই এসব ষড়যন্ত্র হয়েছে।

শিক্ষককে এমপি সেলিম ওসমান ‘তারছেড়া’ বলেছেন। জানিয়েছেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির ব্যাপারে এমপি’র কাছে প্রমাণ আছে। শিক্ষকের পরিবার লিখিত দিয়েছে। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, ‘আমার স্ত্রী হাসপাতালে আছেন। তাঁকে ডাক দেন। এগুলো ভিত্তিহীন কথা।’

শিক্ষক বলেন, তিনি চান যে এমপি শিক্ষকের গায়ে হাত তোলেন, তাঁকে যেন বরখাস্ত করা হয়।

সরকারের তদন্ত কমিটি শিক্ষককে স্বপদে বহাল করেছে। শিক্ষক শ্যামল কান্তি এ জন্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সবাইকে শত কোটি প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানান।

You Might Also Like