চুক্তির পরেও রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুড়িয়েছে মিয়ানমারের সেনারা

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করার পরও রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়টির বাড়িঘর পুড়িয়েছে মিয়ানমারের সেনারা। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ তথ্য জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার।চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা মিয়ানমারের।প্রসঙ্গত, গত আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে নামে। সেনাদের অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে প্রাণে বাঁচতে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাংলাদেশ পালিয়ে আসতে শুরু করে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুড়িয়েছে। স্যাটেলাইট পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, অক্টোবর ও নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের ৪০টি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

হিউম্যান রাইটসের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্যাড অ্যাডামস বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দিনগুলোর মধ্যে বার্মার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়ায় এটাই দেখা যাচ্ছে যে, এটা স্রেফ জনসংযোগের জন্য একটা স্টান্টবাজি ছিল।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী অস্বীকার করলেও স্যাটেলাইট ছবিতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো যে ধ্বংস করা অব্যাহত রয়েছে তাই দেখা যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বার্মার সরকার যে অঙ্গীকার করেছে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া যায় না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ছবিতে দেখা গেছে আগস্টে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর ৩৫৪টি গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির নেত্রী অং সান সু চি ৫ সেপ্টেম্বর রাখাইনে সেনা অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ এরপরেই পোড়ানো হয়েছে কমপক্ষে ১১৮টি গ্রাম।

You Might Also Like