চীনের পিটুনী খেয়েও বাংলাদেশকে পদতলে রাখতে মরিয়া ভারত

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন : 

চীনা সৈন্যদের হাতে পিটুনী খেয়ে নিলর্জ্জ ভারত বাংলাদেশকে তার পদতলে রাখতে মরিয়া। নেপালের লাথি খেয়ে ভুটান, এমনকি বাংলাদেশকে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়ে এখন নতুন উদ্যমে বন্ধুত্ব নামক খোয়াড়ে বাংলাদেশকে ধরে রাখতে মাঠে নেমেছে আনন্দবাজারী গোষ্ঠী।
২৩ জুলাই কলিকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘ড্রাগনের ছায়ায় প্রতিবেশি’ শিরোনামে  তাপস বন্দোপাধ্যায়ের লেখা নিবন্ধে তেমন ভীতিকর ইঙ্গিতই দেয়া হয়েছে। তার মূলকথা হলো বাংলাদেশের ওপর ভারতের কর্তৃত্ব ও খবরদারি যেকোন মূল্যে ধরে রাখতেই হবে।
বাংলাদেশ যেন ভারতের স্বার্থবাহী একটি জনপদ। বাংলাদেশের কোন পদক্ষেপ ভারতের ভূ-রাজিৈতক ছকের বাইরে গেলেই যেন ভারতের বুক কেঁপে ওঠে। অন্যকোন দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক করার সার্বভৌম অধিকারকে ভারত যেন স্বীকার করতে চায় না।
তাপসের ক্ষোভ: চলতি বছরের জুন মাসে চীনা মেডিক্যাল প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে স্বাগত জানানো হলেও মে মাসে ভারতীয় মেডিক্যাল টিমকে বাংলাদেশে আসার প্রস্তাব বাংলাদেশ প্রত্যাখান করে। এমনকি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের সংবাদও  ভারতের  শরীরে আগুন জ্বালায়। ২২ জুলাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের সাথে শেখ হাসিনার টেলিফোন সংলাপ দেখে এবং এই সংলাপ কোন দিকে মোড় নিবে তা ভেবে মোদি বাহিনীর কতোজন বেহুঁশ হয়েছে তা জানা যায় নি।
ভারতীয়দের দুঃখ চীন বাংলাদেশের ৯৭.৫  শতাংশ  পণ্যের শুল্কমুক্ত করে,  ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে পরিকাঠামো গড়তে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করে বাংলাদেশকে কাছে কাছে নিয়েছে। ওই নিবন্ধে আরো বলা হয়: চীনের দণি-পশ্চিমে একটি বিরাট অঞ্চলের নিকটতম সমুদ্রবন্দর হল চট্টগ্রাম। তাই কুনমিং থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণে চীনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশকে কাছে টানার চীনের আরেকটি কৌশল তাপসদেরকে  উদ্বিগ্ন করেছে। তাপসের ভাষায়: “ইউরোপের দেশগুলিতে রফতানি থমকে যাওয়ায় বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প গভীর সঙ্কটে। এমন সময়ে চিনের বন্ধুত্ব ঢাকার কাছে জরুরি তো বটেই। শুল্কমুক্ত রফতানির বিনিময়মূল্য কালে কালে কী দাঁড়ায়, দেখা যাক।”
প্রবন্ধে চীনের খুঁত জাহির করার জন্য শ্রীলংকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে চীনা বিনিয়োগকে ক্ষতিকর হিসেবে দেখানো হয়।  নেপালে ভারত  লাথি খাওয়ার জন্য চীনের কূটনীতিকদেরকে দায়ী করা হয়। বলা হয় চীন এখন ভারতীয় উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তার, সীমা সম্প্রসারণ করতেই কূটনৈতিক লড়াই চালাচ্ছে।
এরপরেই আসে আসল কথা  Ñ  বাংলাদেশকে ভারতের কব্জায় রাখার খায়েশ। তাপস বলেন: “এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়াতে গেলে ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম।” একঢিলে দুই পাখি মারার দুরভিসন্ধি। মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে বেঁধে ফেলতে যে সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছে তা অব্যাহত রাখা। আর উপরি পাওনা হিসেবে বাংলাদেশকে, প্রয়োজনে এর ভূমিকে ব্যবহার করা।
চীনা পিটুনি এবং নেপালের লাথি  খেয়েই ভারতীয়রা এখন বাংলাদেশের “এই অপরিসীম গুরুত্ব”  অনুভব করছে। অন্যথায় ভারত কখনোই এমনটি অনুভব করতো না। নেপাল যেসব কারণে ভারতকে লাথি মারছে, আমাদের কারণগুলো তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি, তার চেয়ে ভয়ঙ্কর। তাই বাংলাদেশের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি লাথি ভারতের পাওনা রয়েছে। সেই লাথিগুলো সঠিক সময়ে দেয়া হবে।
ভারত আমাদের বুককে বার বার ঝাঝরা করেছে। ভারত নেপালের একজন রাজাকে খুন করেছে, আর আমাদের দুইজন রাষ্ট্রপ্রধান (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান)’কে খুন করেছে। খুন করেছে আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক সেনাবাহিনীর ৫৭জন কর্মকর্তাকে। জঙ্গী দমনের নামে বাংলাদেশের হাজার হাজার দেশপ্রেমিককে বিভিন্নভাবে খুনের নেপথ্য নায়ক ভারত। ভারত আমাদের মধ্যে বিভাজন-বিভক্তি সৃষ্টি করে আমাদেরকে দিয়ে আমাদেরকে খুন করছে।
ভারতের বাংলাদেশবিরোধী  হাজারো ধরনের দুষ্কর্ম মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই চালিয়ে আসছে। আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে ভারত-নির্ভর ও নড়বড়ে  করা হচ্ছে।  ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর  হতে ভারত  বাংলাদেশে  যে লুন্ঠন শুরু করে তা এখন বিভিন্ন কায়দায় ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে।  ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপ্টমেন্টের নাম ভারত বাংলাদেশকে ভারতের ভূখন্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নয়টি পয়েন্ট দিয়ে ভারত ট্রানজিট সুবিধা ভোগ করছে। বিশ্বের কোথাও এমন নজির নেই। অথচ ১৯৪৭ সনেই ভারতকে ১৪ মাইল চওড়া শিলিগুড়ি করিডোর দেয়া হয়েছিল আসামের সাথে সংযোগ সৃষ্টির জন্য। এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তান আজকের বাংলাদেশের অংশ হতো। ভারত কোনভাবেই বাংলাদেশের কাছে নয়টি  তো  দূরের কথা একটি করিডোরও দাবি করতে পারে না।
১৯৯২ সনে বেগম জিয়া সরকারের সময় নেপাল-ভূটানের সাথে আমদানী-রফতানীর জন্য ভারতের সড়ক ব্যবহার হয়ে চুক্তি হয়। কিন্তু মাত্র একবার তিন ট্রাক ডাল আমদানী করার পর ভারত এই চুক্তি হতে এরপর ভারত নিরাপত্তার অজুহাতে সরে পড়ে। যদিও  ওই ট্রাকগুলোর সামনে পিছনে ভারতীয়  সৈন্যরা পাহারা দিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে সব সরকারের আমলেই ভারত এই সুযোগ চেয়েছিল। কিন্তু ভূ-আর্থিক কৌশলগতস্বার্থ বিবেচনা করে কোন সরকারই ভারতকে এই সুযোগ দেয় নি। শেখ হাসিনা কোন বিবেচনায় বাংলাদেশের এই বিরল চাবি ভারতের হাতে তুলে দিল আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা জানতে চাইবে। এই ট্রানজিট আমাদের জন্য বিপদ টেনে আনতে পারে। এখন ভারত ১,৬৫০ কি.মি না ঘুরে  বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে মাত্র ৫০০  কি.মি. মিটার পাড়ি দিয়ে পণ্য-সামগ্রী ত্রিপুরায় পৌঁছে বিনা শুল্কে। আমাদের জমি, আমাদের সড়ক, সেতু। এগুলোকে রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্বও আমাদের ।
অথচ সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমদের ওকালতি আমার স্পষ্ট মনে আছে: ভারতকে ট্রানশিপটমেন্ট (কেবল বেনাপোল) দিলে বাংলাদেশ বছর ২০ হাজার ডলার আয় করবে। এখন নয়টি পয়েন্ট দিয়ে সরাসরি ট্রান্সজিট দিয়ে বাংলাদেশ  কী পায় তা তোফায়েলদের কাছে  জিজ্ঞেস করা উচিত। আর বাংলাদেশ হয়ে পণ্য না অস্ত্র  নেয়া হয় তা জানার সুযোগও নেই। অথচ ভারত আমাদের সীমান্তে নয়ফোঁড় দিয়ে স্বাধীনভাবে আমাদের ভূখন্ড ব্যবহার করে। আমরা কেন ভারতকে এমন যথেচ্ছ অধিকার দিচ্ছি?
নৌপথে একটন পণ্যের জন্য শুল্ক ধরা হয়েছে মাত্র ১৯২.২২ টাকা। এটাও তো মূলত বিনা মূল্যে। কারণ আমাদের টাকা খরচ করে নৌপথের নব্যতা বজায় রাখতে হয়। অন্যদিকে  বিস্ময়করভাবে চট্টগ্রাম ও মঙ্গলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করার জন্য ভারতকে  কোন শুল্ক দিতে হয় না। ভারতীয় ইংরেজী পত্রিকা ‘ইকোনমিক টাইম্স’ (১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯) জানায়: “Bangladesh, notwithstanding its decision to cancel visits by foreign and home ministers to India last week in the aftermath of Citizenship (Amendment) Bill controversy, will allow transhipment of Indian goods via Chittagong and Mongla sea ports from January without charging customs duties and transit fees.” (নাগরিকত্ব সংশোধন বিল বিতর্কের কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের গত সপ্তাহে (ভারত সফর)  বাতিল করার সিদ্ধান্ত সত্বেও বাংলাদেশ চট্ট্রগাম ও মঙ্গলা বন্দর দিয়ে কোন শুল্ক ও ট্যানজিট ফি ছাড়াই ভারতীয়  পণ্য ট্রানশিপমেন্ট/স্থানান্তর করার সুযোগ দিবে) । এমনকি চুক্তিতে এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের বন্দরে ভারতীয় জাহাজ আসলে বাংলাদেশী জাহাজসহ অন্য সবার আগে ভারতীয় জাহাজ খালাস করতে হবে। এমন গোলামী চুক্তি ভারত কীভাবে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে তা জানতে ইচ্ছে করে। ভাবটা এমন যেন আমাদের ভূমি, সড়ক, সেতু, নদ-নদী,  সমুদ্র উপকূল, নদীবন্দর, সমুদ্র বন্দর সবকিছুই যেন ভারতের, আমাদের নয়।
ভারতের শোষণ ও প্রতারণা এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশের সবকিছু নিজের ইচেছ মতো ব্যবহার করার জন্য ভারত বাংলাদেশের সামনে টোপ ফেলে। বাংলাদেশের অতি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভূটান চারদেশীয় পণ্য পরিবহন চুক্তি ২০১৫ সালে ১৫ জুলাই স্বাক্ষরিত হয়। এটা ছিল সম্পূর্ণ ভাওতা। ভারতের স্বার্থান্বেষী জঘন্যতার কারণে বাংলাদেশী কিংবা নেপালী-ভূটানী যানবাহন ভারত হয়ে একদিনের জন্যও ভারতীয় ভূমি ব্যবহার করতে পারে নি। অর্থাৎ চুক্তি বাস্তবতার মুখ দেখে নি। কারণ নেপাল-ভূটানের যানবাহন ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ ফেলে বাংলাদেশ ওই দুই দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমেই হবে এবং এতে ভারত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ আর বাংলাদেশ লাভবান হবে। তাই ভারতই ওই চুক্তি অমান্য করে।  এটাই হলো ভারতীয় বন্ধুত্বের স্বরূপ।
জঘন্যতার সব রেকর্ড ভেঙ্গে শেখ হাসিনার সর্বশেষ (২০১৯) সফরের সময় ভারত চারদেশীয় চুক্তিকে দুই দেশীয় (বাংলাদেশÑভারত) চুক্তিতে নামিয়ে আনে। বাংলাদেশ কোনভাবে লাভবান হোক ভারত তেমন সুযোগ বাংলাদেশকে কখনোই দিতে চায় না।
আর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের নামে ভারত বাংলাদেশকে একচেটিয়া বাজারে পরিণত করেছে। ঢাকার ইংরেজী দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ (২৩  জুলাই, ২০২০) জানায়: ভারতের সাথে বাংলাদেশের  দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি চিত্র ভয়াবহ। বাংলাদেশ ভারত থেকে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানী করে, যদিও বাংলাদেশ থেকে থেকে মাত্র ৬০০ মিলিয়ন মূল্যের পণ্য কেনে।
আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ দিয়ে শুকনা মৌসুমে পানি আটকিয়ে আবার বর্ষাকালে পানি ছেড়ে দিয়ে প্রতিবছর একাধিক বন্যা ঘটিয়ে আমাদের অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়।
গণবাহিনী, রক্ষীবাহিনী থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে চর ও দালাল সৃষ্টি করে বাংলাদেশে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা, শিল্প-কারখানায় অগ্নিসংযোগ, ধর্মঘট, অবরোধ, মারামারি-হানাহানি, খুন, জখম, গুম, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার, জঙ্গী তৈরি ইত্যাদি সব জঘন্যতার সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ভারতের আগ্রাসী নীতির অংশ। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুট, জালনোট, জালিয়াতিসহ সব ধরনের অপরাধের সাথে ভারতীয় গোয়েন্দা জড়িত।
১৯৭২ সন হতে এমন একটি নজির নেই, যা প্রমাণ করে ভারত বাংলাদেশের সুখ-সমৃদ্ধি চায়। বরং বাংলাদেশকে সমস্যায় জর্জরিত রেখে কী ভাবে দ্রুত, সর্বোপরি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির নামে একপাক্ষিক সুবিধা আদায় করে দুর্বল ও দখল করা যায় সেই ফন্দি-ফিকির করছে। শেখ হাসিনার আমলে ১২ বছরে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত তথাকথিত শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি, সামরিক সহযোগিতা চুক্তিসহ শত শত প্রকাশ্য কিংবা গোপনীয় চুক্তি কোনটাই আমাদের অনুকূলে আমাদের স্বার্থে নয়।
আমরা যে একটি স্বাধীন ও ভিন্ন দেশ ভারত তা যেন স্বীকারই করে না। ভারত তার ইচ্ছামতো আমাদের দেশকে ব্যবহার করছে। আমাদের ভূখন্ডে রাডার বসাবে। আমাদের পারমানবিক কেন্দ্রসহ সবক্ষেত্রে তার কর্তৃত্ব ও অংশীদারিত্ব দিতে হবে। আমাদের পুলিশকে সেনবাহিনীকে আমলা-বিচারকদেরকে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আমাদের সর্বত্র ভারতীয়রা ইচেছ মতো চষে বেড়াবে। বাংলাদেশ যেন ভারতেরই ভূখন্ড। এই তো সেই দিন জনৈক সাবেক সেনা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন: বাংলাদেশের সেনানিবাসে, অফিস-আদালতে ভারতীয়রা কিংবা তাদের চররা অবস্থান নিয়েছে। তাদের গোয়েন্দারা দেশের সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। আমাদের প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে। ভারতের ইঙ্গিতে অনেক কিছু চলে।
ভারত আমাদের সাথে কখনো নির্দোষ বন্ধুসুলভ আচরণ করেনি। তার আচরণ সবর্দাই প্রভুসুলভ। আমরা যেন ভারতের গোলাম হবার জন্যই দেশকে স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশ যেন তাদের অধীনস্থ নামেমাত্র আধা-স্বাধীন একটি জনপদ যাকে ভারতই নিয়ন্ত্রণ করবে।
বাংলাদেশের কোন দেশপ্রেমিক ভারতের এমন আচরণ সহ্য করার কথা নয়। নেপাল কম দুঃখে ভারতকে লাথি মারে নি। সামান্য স্বদেশপ্রেম রয়েছে এমন কেউ ভারতকে বন্ধু মনে করতে পারেন না। ভারতের কর্তৃত্ব মেনে নিতে পারে না। ভারতপ্রেম ও স্বদেশপ্রেম পাশাপাশি চলতে পারে না । এই দুটি পরস্পর বিরোধী।
বাংলাদেশে ভারতীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্যই তাপস বন্দোপধ্যায়রা এখন আমাদেরকে বাংলাদেশের গুরুত্বের গান শুনাচ্ছেন। কারণ চীনের মুকাবেলায় বাংলাদেশের মাটি তাদের দরকার। তাই তাপস আমাদেরকে ঘুম পাড়াতে চান, বন্ধুত্বের গান শুনান। তিনি বলছেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের হাত ধরে নাকি সুসম্পর্কের শুরু। আমরা, মুক্তিযোদ্ধারা তেমনটিই চেয়েছিলাম। কিন্তু ভারতের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে দখলে রাখা। দখল করা। ভারতীয়রা প্রকাশ্যেই এমনটি বলেছেন এবং এখনো বলেন এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন Ñ বাংলাদেশ তাদের। পাকিস্তান ভাঙ্গা ছিল তাদের ভাষায় অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার একটি ধাপ।
ভারতের এই স্বপ্ন কখনোই পুরণ হবে না। আমরা মুসলিম দেশ ভেঙ্গে হিন্দুর গোলাম হবার জন্য দেশ স্বাধীন করি নি। আমাদের বাবা-দাদারা হিন্দুদের অত্যাচার, অবিচার, শোষণ থেকে মুক্তি পাবার জন্যই ১৯৪৭ সনে অজানা মানুষের সাথে কেবল ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম আবাস ভূমি বানিয়েছিলেন। সেই দেশ ভেঙ্গে গেলেও আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস  ও পরিচিতি আমরা আজো ধারণ করি। ১৯৪৭ সন হতে হিন্দুরাই হাজারো বার প্রমাণ করেছে দ্বিজাতি তত্ত্ব সঠিক। তারাই কট্টর সাম্প্রদায়িক, কসাই, । অন্যের দেশ দখলকারী। এই দখলদার সন্ত্রাসী দেশ ভারতকে থামাতে হবে। এই কারণেই উপমহাদেশের কোন দেশ ভারতের পাশে নেই। শতকরা ৯০ জন বাংলাদেশী ভারতের অত্যাচারের অবসান চান। তাই চীন-ভারত লড়াইয়ে বাংলাদেশ কেন ভারতের পক্ষাবলম্বন করতে পারে না।
চীনের সাথে ভারতের দ্বন্ধে আমরা কেন ভারতের জন্য ব্যবহৃত হতে যাবো? আমাদেরকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে। সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু ভারতকে বিশ্বাস করা যায় না। যে ভারত সিকিমের মতো দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তা দখল করতে পারে সেই ভারত আমাদের সাথে একই আচরণ করবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। এমন দিন আসবে যখন ভারত তার নিরাপত্তার অজুহাতে  আমাদের দেশ দখলে নিয়ে নিবে। তাই ভারতের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসার এটাই সময়, যেমনটি করেছে নেপাল, এমনকি ভূটানও । ভারত এখন আমাদের পায়ে দু’হাত রাখবে। অনেক সুযোগ  দিবে। চাপ দিবে। সাহসিকতার সাথে সবকিছু প্রত্যাখান করতে হবে। এমন সুযোগ ও পরিবেশ সব সময় আসবে না।*
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: সাংবাদিক ও গবেষক

You Might Also Like