`চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী’

মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি ও দলীয় পদ হারানোর প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। বলেছেন, জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তির চাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া গণমাধ্যমে তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রচার হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রী দেয়াল লিখনের এখানে প্রস্রাব করিবেন না, করিলে … টাকা জরিমানা শীর্ষক প্রচারবাক্যটি উদ্ধৃত করে বলেন, এই বাক্যের কমা আগে-পরে করলে যেমন অর্থ বদলে যায়, সেভাবেই আমার বক্তব্যের আগে-পরের অনেক বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে।

সোমবার কলকাতার স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টায় একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি জানান, এখানে (কলকাতা) এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছেন। এখান থেকেই বাংলাদেশের গোটা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ঢাকার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। সময় সুযোগ হলেই প্রকাশ্যে আসবেন এবং দেশে ফিরে যাবেন।

টেলিফোনে এ আলাপের সময় ঢাকার পতিত এই মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি চার-পাঁচজন সাংবাদিকের সঙ্গে বসে গল্প করেছি। এটা কোনো বিবৃতি বা খবর নয়। যা বলেছি তার প্রথম ও শেষ অংশের অনেকটাই বাদ দেয়া হয়েছে। খাবলা-খাবলা করে কিছু বিষয় তুলে সংবাদ প্রচার করে অকারণে হইচই বাধানো হয়েছে। এতে করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন- সে ব্যাপারে প্রথমে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও সাক্ষাৎকার নেয়ার একপর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার নেত্রী। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি তা মেনে নিয়েছি। তার কাছে প্রশ্ন ছিল কলকাতায় এলেন কেন? জবাবে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি লন্ডন বা আমেরিকায় আরাম-আয়েশে থাকতে পারতাম। কিন্তু কলকাতায় এলাম বাংলাদেশে ফিরে যাব বলে। কবে ফিরবেন- জানতে চাইলে বলেন, পরিবেশ হলেই ফিরে যাব।

এই নেতার কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়, প্রকাশ্যে কখন আসবেন? জবাবে তিনি বলেন, দু-চার দিন যেতে দিন। গোটা বিষয়টা দেখি, জানি, বুঝি- তারপর ঠিক করা যাবে।

এদিকে সোমবার বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, দল এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য তিনি অনুতপ্ত। কিন্তু যে বক্তব্যের জের ধরে তাকে নিয়ে এই বিতর্ক শুরু হয়, সেটা নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। এখন তিনি দেশে ফিরে যেতে চান। তবে এ ব্যাপারে দল (আওয়ামী লীগ) এবং সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। আপাতত ভারতে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

হজ ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর রবিবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাকে অপসারণ করা হয়। লতিফ সিদ্দিকী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘরোয়া আড্ডায় দেয়া তার বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশেই ফিরে যেতে চান কিন্তু দেশে ফিরে গেলে তার দল এবং সরকারকে আরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হবে কিনা তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

You Might Also Like