চাঁদার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার টর্চার সেলে বাবা-ছেলেকে নির্যাতন

বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল হক বাবু।

উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি বাবুর টর্চার সেলে নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের ঘটনায় বাসুদেবপুর ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌরসভার অর্ধেক এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় বাবু নির্বিঘ্নে তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে বাসুদেবপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর নামাজগ্রামের বাসিন্দা পোল্ট্রি খামারি সালাউদ্দিন (২৫) এবং তার পিতা শরীফ হোসেনকে (৫২) বাবু ও তার ক্যাডাররা টর্চার সেলে নির্মম নির্যাতন করেছেন।

নির্যাতনের একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন পিতা-পুত্রকে বাবুর টর্চার সেল থেকে উদ্ধার করেন। এরপর শরীফ হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পোল্ট্রি খামারি সালাউদ্দিন গোদাগাড়ী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবু তার ক্যাডার জিয়ার মাধ্যমে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সালাউদ্দিনকে তার কামারপাড়ার টর্চার সেলে ডেকে পাঠান। এরপর সালাউদ্দিনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বাবু। এসময় সালাউদ্দিন টাকা নেই জানালে তার বাবা শরীফকে নিয়ে আসা হয়। এরপর বাবু ও তার ক্যাডাররা চাঁদার দাবিতে সালাউদ্দিন এবং তার পিতা শরীফকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান।

এভাবে ছেলে ও বাবার ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা নির্যাতন চালান বাবু এবং তার ক্যাডাররা। একপর্যায়ে বাবা ও ছেলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেন। তারপর তাদের উদ্ধার করে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত শরীফকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। আর সালাউদ্দিন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

নির্যাতনের শিকার পোল্ট্রি খামারি সালাউদ্দিন বলেন, বাবু দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করছেন। সর্বশেষ চাঁদার জন্য আমাদেরকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনে আমার বাবার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো না। বাবুর চাঁদাবাজি, জমি দখল আর নির্যাতনে এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। আমি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য বাবু এবং তার ক্যাডাররা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় বাবুর বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। বাবু বাসুদেবপুর ইউনিয়নের লস্করহাটি এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবদুল আওয়ালের পুকুর দখল করেছেন।

কাশিমপুর বাজারে স্থানীয় লোকমান মন্ডল এবং কাইমুন মন্ডলের ২৫ কাঠা জমি দখল করে বসতি স্থাপন করেছেন। কামারপাড়া হাটের মাঠ দখল করেছেন। গত মার্চে বিশ্বরোডে সরকারি গাছ বিক্রি করেছেন এছাড়া মলদেবপুর দ্বিগ্রাম রাস্তার সরকারি গাছ গত ফেব্রুয়ারিতে দিনদুপুরে কেটে তা বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবদুল হক বাবুর সাংগঠনিক পরিচয় এবং টর্চার সেল সম্পর্কে রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান রিন্টুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, বাবু বাসুদেবপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি কী না- তা আমার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি নির্যাতন, জমি দখল এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি এসব ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সহযোগিতা করা হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল হক বাবু বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক না। এছাড়া জমি দখল, সরকারি গাছ কাটা এবং নির্যাতনের অভিযোগও ভিত্তিহীন। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্যই মহলটি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের পর সত্যতা পেলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You Might Also Like