চাঁদপুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপর যুবলীগের হামলা : আটক ৫

চাঁদপুরের কচুয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে ৫ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে কচুয়া থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২০ জন এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বিধায় কর্তব্যরত চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছে।

গত বোরবার এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ হামলার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সরকার ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে।

রোববার দিবাগত রাতে তিনি এই মামলা দায়ের করেন।

আটককৃতরা হলো- ভূইয়ারা গ্রামের সফিকুর রহমানের ছেলে আলাউদ্দিন (৩২), মিজানুর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল (২২) ইমাম আলীর ছেলে সবুজ (১৯), আল আমিনের ছেলে ইমাম হোসেন (১৬) ও কেরামত আলীর ছেলে উবায়েত উল্লা (৩৫)। এরা সকলে স্থানীয়ভাবে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত সন্ত্রাসী লিটন ফারুক মনির এখনো রয়েছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কৃষ্ণ সাহা জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম রয়েছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল ও সোনিয়া আক্তারকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই দু’জনের পা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

কচুয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম খলিল জানান, রোববার রাতে ভূইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে ফারুক, লিটন ও মনিরসহ ৮জন নামধারী ও অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী ও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসীর হামলার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ রাতেই ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে।

চাঁদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল হাজিগঞ্জ) মো.আব্দুল হানিফ জানান, ৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এ ছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃতদের ধরার জন্য সর্বত্র অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, কচুয়া উপজেলা ভূইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ১৫ আগস্টের জন্য চাঁদা দাবি করে কচুয়ার পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়ারা গ্রামের নামধারী যুবলীগ নেতা ফারুক, লিটন ও মনিরসহ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রধান শিক্ষকের দেয়া অল্প টাকায় টাকায় যুবলীগের মন ভরে না। ফের আবারো ১৫ হাজার টাকা দাবি করে যুবলীগের ঐ সকল সন্ত্রাসীরা। এতে প্রধান শিক্ষক অসম্মতি জানালে ঐ সকল ক্যাডারা প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করে।

প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে গত বোরবার দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে গেলে ঐ সকল যুবলীগের ক্যাডাররা লাঠিসোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। মাত্র ২০ মিনিটের হামলায় প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় জেলা ব্যাপী ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রোববার রাতেই প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

You Might Also Like