ঘোলা করেই পান করলেন, বাকী শুধু মির্জা ফখরুল!

একাদশ সংসদের তির্কিত নির্বাচনে বিএনপি’র ৬ জনকে নির্বাচিত দেখানো হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর দুইবারে ৬ জনের মধ্যে ৫ জন শপথ নিলেন। প্রথমে গত ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিএনপি’র সাংসদ জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথগ্রহণ করেন। ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।’ কিন্তু এবার দলীয় সিদ্ধান্তে গত ২৯ এপ্রিল সোমবার চার সদস্য শপথগ্রহণ করেন। শপথ নেয়া চারজন হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া এবং বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন।

বিএনপি’র পাঁচজন শপথ নিলেও বাকি রয়েছেন দলের অপর নির্বাচিত ঘোষিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিজের শপথ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি বলেছেন, ‘সময় হলেই দেখতে পাবেন।’এদিকে ফখরুলের শপথ না নেয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা কথা উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির মধ্যম সারির একজন নেতা বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। তাই প্রতিবাদস্বরূপ তিনি শপথ নেয়া থেকে বিরত থেকেছেন।’

এই নেতা আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রতি বিএনপি নেতাদের এমন শ্রদ্ধা-ভক্তি নতুন নয়। আপনারা দেখেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের যখন মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়, তখন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন নাই। কারণ হিসেবে গণমাধ্যমে এসেছে যে, তারা খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবেন না। শপথ না নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সে রকম একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।’

দলের আরেকটি সূত্র জানায়, যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের শপথ নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ এতটাই প্রবল ছিল যে যদি দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত তা তারা মানতে পারতেন না। ফলে দলকে আরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতো।

সূত্র মতে, শপথের বিষয়ে যাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে তারা দলের হয়ে সংসদে আর মহাসচিব বাইরে থেকে কথা বলবেন।

গুঞ্জন উঠেছে, ৯০ দিনের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে উপযুক্ত কারণ জানিয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন ফখরুল। তাতে বিএনপি মহাসচিব অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন।

তবে স্পিকারকে ফখরুলের চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ফখরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি একই উত্তর দেন। বলেন, ‘সময় হলে দেখতে পাবেন।’

You Might Also Like