ঘুষের ভাগ নিয়ে দুই পুলিশের মারামারি

দুজনেই উর্দি পড়া পুলিশ। কিন্তু একে অন্যকে ঘুষি-লাথি মেরে চলেছেন। অন্য দু’জন পুলিশ তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
এমনকি লাঠি উঁচিয়ে ঘুষোঘুষিতে লিপ্ত দুই সহকর্মীকে আলাদা করার চেষ্টাও করছেন তাঁরা। কিন্তু মারামারি চলছেই।
এই ছবি ভারতের লখনউ শহরের এক ব্যস্ত চৌরাস্তার মোড়ে। রবিবার দিনের বেলায়।
গাড়ি আর মানুষে ভর্তি ইটাউঞ্জা এলাকায় দুই পুলিশের মারামারি দেখতে চারদিকে ভিড় জমে গিয়েছিল। কয়েকজন ঝটপট মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন এই দৃশ্য। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে ইউটিউবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই দুই পুলিশকর্মী নিজেদের মধ্যে মারামারি করছিলেন। আর অন্য দু’জন পুলিশ সহকর্মীদের ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন।
শেষমেশ একজন সিনিয়র অফিসার এসে মারামারিতে লিপ্ত দুজনকে আলাদা করতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের কথায়, ওই মোড় দিয়ে প্রচুর ট্রাক চলাচল করে। ওই পুলিশ কর্মীরা যে ট্রাকগুলো থেকে ঘুষ নিচ্ছিলেন সেটা অনেকেই দেখেছেন। হঠাৎ দু’জনের মধ্যে মারামারি বেঁধে যায় ঘুষের ভাগ নিয়ে।
পুলিশ আধিকারিকেরা অবশ্য স্বীকার করেননি যে ঘুষের ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল।
লখনউয়ের সিনিয়র পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট মঞ্জিল সাইনীর সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
তবে পি টি আই সংবাদ সংস্থাকে তিনি জানিয়েছেন, “ওই এলাকায় ট্র্যাফিক জ্যাম হয়ে গিয়েছিল, সেটা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে ঝামেলা হয় একজন পুলিশ কনস্টেবল আর একজন হোমগার্ডের মধ্যে। ওই পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত শুরু হয়েছে আর হোমগার্ড কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি আমরা।“
ভারতে হোমগার্ড এক বিশেষ আধা-পুলিশবাহিনী, যারা আইনশৃঙ্খলা বা ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে পুলিশ বাহিনীকে সাহায্য করে থাকে।
বিভিন্ন সরকারী অফিসারদের বাড়ি পাহারা দেওয়ার কাজেও এদের স্বল্প মেয়াদে বহাল করা হয়।
উত্তর প্রদেশ পুলিশের এধরণের কীর্তিকলাপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এই প্রথম নয়।
কোথাও অভিযোগ জানাতে আসা নারীকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করাচ্ছেন এক পুলিশ আধিকারিক, কোথাও পুলিশ অফিসারের জুতো পালিশ করানো হচ্ছে – এরকম অনৈতিক কাজের ছবি অনেকবারই প্রত্যক্ষদর্শীরা মোবাইলে তুলে রেখেছেন। তারপরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। -বিবিসি বাংলা

You Might Also Like