হোম » গয়েশ্বর রায়ের বাড়িতে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় পুলিশি হামলা এবং মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর চলমান হামলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই

গয়েশ্বর রায়ের বাড়িতে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় পুলিশি হামলা এবং মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর চলমান হামলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই

admin- Tuesday, September 19th, 2017

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের কেরানীগঞ্জের বাড়িতে সম্প্রতি দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় পুলিশি হামলা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বলেছেন, এ হামলার সঙ্গে মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর চলমান হামলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দেশে যারা বিএনপি করে তারা যে ধর্মেরই হোক তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে বাধা দিচ্ছে এ সরকার।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন দলটির নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের বাসায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী,  চেয়াপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, আতাউর রহমান ঢালী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের  মুহাম্মাদ রহমতউল্লাহ, রমেশ দত্ত, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায়  চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল বাট পি কস্তা প্রমুখ।

গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের বাসায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা বিএনপি করে তাদের মধ্যে যারা মুসলমান তাদের ইফতার করতে  দেয়া হয় না। যারা হিন্দু তাদের পূজা করতে  দেয়া হয় না। যারা  বৌদ্ধ তাদের প্রার্থনায় বাধা দেয়া হয়। এ হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের বাড়ির দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় পুলিশের হামলা- এটা গণতন্ত্রের ওপর ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। কারণ, গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আজীবন গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে চলেছেন।

তিনি বলেন, দেশ একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ অবৈধ সরকারের অপসারণ ছাড়া আমাদের কোনো মুক্তি  নেই।

দফায় দফায় মিয়ানমারের সামরিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লংঘনের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মিয়ানমার আমাদের দেশের আকাশসীমা লংঘন করছে, আমাদের পানি সীমা লংঘন করছে, তারা যদি আমাদের দেশকে দখল করতেও আসে তার পরও বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার কিছুই বলবে না। পাল্টা জবাব তো দূরের কথা।

তিনি বলেন, সরকার  দেশের  ভেতর বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে  লেলিয়ে দিয়েছে। সুচির নিরাপত্তা বাহিনী আর  শেখ হাসিনার আইনশৃংখলা বাহিনীর মধ্যে  কোনো পার্থক্য  নেই। সুচির বাহিনী যা করছে,  শেখ হাসিনার বাহিনী তাই করছে।

গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের বাড়িতে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ হামলার সঙ্গে মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, তার কোনো পার্থক্য নেই।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, কয়েক দিন আগে আমরা (বিএনপি) রোহিঙ্গাদের জন্য ২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলাম, আমাদের সেই ত্রাণ দিতে দেয়া হয়নি। আপনারা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়  দেখছেন কী কষ্টে তারা (রোহিঙ্গা) দিনাতিপাত করছে। সারা দেশের মানুষকে যখন পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানানোর দরকার কিন্তু সেই আহ্বান না জানিয়ে বিএনপিকে ২২ ট্রাক ত্রাণ দিতে বাধা দেয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সামাজিক অনেক সংগঠনই সাহায্য দিচ্ছে কিন্তু সরকারসহ ১৪ দলের কাউকে  সেখানে ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি। তাদের মুখে শুধু বড় বড় কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রতিদিনই গলাবাজি করছেন। চিবিয়ে চিবিয়ে মিথ্যা কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যখন রিলিফ দেন। সরকারি ভাণ্ডারের চাবি আপনাদের হাতে। আপনারা সেখানে পুলিশ পাহারায় রিলিফ দেন কিন্তু আমরা কোনো সহযোগিতা চাইনি, তার পরেও আপনারা আমাদের রিলিফ দিতে দেননি। আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম আপনারা আমাদের সঙ্গে এই ত্রাণ বিতরণ করেন কিন্তু তারা রাজি না হয়ে আমাদের বলে আপনারা ২-৩ বস্তা বিতরণ করে ছবি তুলে চলে যান আর বাদ-বাকি আমাদের গুদামে জমা দেন। তাহলে ভাবেন একবার দেশের কী অবস্থা?