গ্রীসের রাষ্ট্রদূতের নারী নির্যাতনের ‘সত্যতা পাওয়া গেছে’

গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে যৌন নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে

ওই নারী গ্রীসে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় (আইওএম) কর্মরত আছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খুরশিদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কয়েক মাস আগে ওই নারীর দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

তদন্ত কমিটি সম্প্রতি যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতেও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনটি পররাষ্ট্র সচিবের কাছে জমা দেয়া হলে  তিনি তার সুপারিশসহ সেটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এ ধরনের ঘটনায় পররাষ্ট্র সচিব এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওই গ্রীক নারী কয়েক মাস আগে  রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন দায়ের করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত আগস্ট মাসে একটি তদন্ত কমিটি গ্রীসে পাঠায়।

ওই নারী অভিযোগ করেন যে আমন্ত্রিত হয়ে একদিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় গেলে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়।

তিনি ও ঘটনার বিশদ বর্ণনা দিয়ে গ্রীসের আইওএম মিশন প্রধানের কাছে একটি চিঠি লিখেন এবং পরবর্তীতে সেটিই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ওই নারীর রাষ্ট্রদূতের অশালীন প্রস্তাবে বারবার অসম্মতি জানানোর পর রাষ্ট্রদূত তাকে ‘করুণ পরিণতির’ হুমকি দেন।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার অভিযোগও আছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে  বাংলাদেশের কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে।

সম্প্রতি এ ধরণের অভিযোগের পর অন্তত চারজন রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

গত জুলাই মাসে লেবাননে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এএফএম গাউসুল আযম সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়নের অভিযোগ ওঠার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত একেএম মজিবুর রহমান ভূইয়ার বিরুদ্ধে টোকিও মিশনে কর্মরত এক জাপানি নারী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করলে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

উজবেকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হাসিব আজিজ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়াই এক বিদেশি নারীকে বিবাহ করলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

ফিলিপাইনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাজেদা রফিকুন্নেসার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বর্তমানে তিনি ওএসডি।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকায় কূটনীতিক মো. শামসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

You Might Also Like