গোপন নজরদারি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান

বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের ভেতর গোপনে স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে নজরদারির অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ করেছে রাশিয়ার অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাব। গত সপ্তাহে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টিতে এত দিন নীরব ছিল। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স এনএসএর প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পিসিতে স্পাইওয়্যার ঢোকানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
নজরদারির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে স্পাইওয়্যার ঢোকাচ্ছে কি না, সে প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার এনএসএর প্রধান বলেন ‘আমরা আইন মেনে সবকিছু করি।’
যুক্তরাষ্ট্রের নেভি অ্যাডমিরাল মাইকেল রজার্সের সঙ্গে বড় পরিসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম্পিউটারের নজরদারি এবং যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দাদের সঙ্গে মিলে বিশ্বের শীর্ষ সিমকার্ড নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং চালানোর ঘটনায় মন্তব্য চাওয়া হয়।
রজার্স জানিয়েছেন, ‘পরিষ্কারভাবে আমি আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগ সম্পর্কে কিছু বলছি না। কিন্তু যে বিষয়টি আমি বলছি তা হচ্ছে, আমরা পুরো আইন মেনে চলি। ‘
ক্যাসপারস্কি ল্যাবের গবেষকেরা গত সপ্তাহে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে দাবি করা হয়, গোয়েন্দারা হার্ডডিস্কের ভেতরে কৌশলে স্পাই সফটওয়্যার এমবেড করে দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। তারা ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল, সিগেট, তোশিবা, স্যামসাংয়ের মতো শীর্ষ হার্ডড্রাইভ নির্মাতাদের পণ্যে তা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এর অর্থ গোয়েন্দারা বিশ্বের অধিকাংশ কম্পিউটারের নজরদারি করতে পারেন। বিশ্বের যে ৩০টি দেশে এভাবে নজরদারি করা হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এই গোপন নজরদারির পেছনে এনএসএর হাত রয়েছে বলে সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মী অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন প্রদত্ত তথ্য ও ইন্টারসেপ্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা জিমালটো নামের সিম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং করে কোড হাতিয়ে নিয়েছে। এতে গোয়েন্দারা কোটি কোটি মানুষের কল, বার্তা ও ই–মেইলে নজরদারির সুযোগ পাবে।
অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের কাছ থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নজরদারির তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকে বিশেষ সতর্ক হয়ে আছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে রজার্স বলেছেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের পেছনে তাড়া করতে যাচ্ছি না আমি। আমার অত সময় নেই। ‘
অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও রজার্সের যুক্তি হচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে অ্যাপল বা গুগলের মতো শক্তিশালী এনক্রিপশন প্রযুক্তি ভাঙতে আইনসংগত অনুমোদন দরকার পড়ে।
রজার্স প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি নির্দিষ্ট ফোন ব্যবহার করে কোনো অপরাধ ঘটানো হয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, তবে তাতে ঢুকতে কোনো আইনি অবকাঠামো থাকবে না?’

You Might Also Like