গোড়ালির ওপর পোশাক ও হিজাব পরার নির্দেশ বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি জনস্বাস্থ্য পরিচালকের

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের মুসলিম নারী ও পুরুষ কর্মকর্তাদের ইসলাম ধর্মীয় বিধানমতো কাপড় পরে অফিসে যাবার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, তা বাতিল করে তিনি নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।

আগে একটি অফিস বিজ্ঞপ্তি জারি করে মি. রহিম তার প্রতিষ্ঠানের পুরুষ কর্মকর্তাদের পায়ের গোড়ালির ওপরে পোশাক পরার এবং নারী কর্মকর্তাদের হিজাবসহ গোড়ালির নিচে পর্যন্ত কাপড় পরিধানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন অফিসে পোশাক পরিধান নিয়ে কোনো নির্দেশনা সরকার বা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে দেয়া হয়নি। সেকারণে কোন বিধি বলে বা কার নির্দেশে পরিচালক বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছেন তার ব্যখ্যা দাবি করে পরিচালককে জবাব দেয়ার জন্য তিন দিনের সময় দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এই তথ্য জানিয়ে বিবিসিকে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান আরও জানান যে মি. রহিমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতের দিকে নতুন এক অফিস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মি. রহিম তার পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করে দেন। তিনি নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ”গোটা জাতির কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা” করেন এবং বলেন ”ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল হবে না”।

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞপ্তি ২৯শে অক্টোবর ২০২০

আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন দেয়া বিজ্ঞপ্তি

এর আগে কর্মকর্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুর রহিমের বিজ্ঞপ্তিটি ওয়েবসাইটে না দিয়ে সরাসরি ওই অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাঠানো হয়েছিল।

মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি তার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচাতে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

“দেখছেন সারা দেশে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। সবাই ঠিক মতো ধর্মীয় বিধান মানলে তো এমন অবস্থা হতো না। তাই আমি আমার অফিসের সবাইকে সে অনুযায়ী পোশাক পরিধান করতে বলেছি,” বলছেন মি. রহিম।

কিন্তু একটি সরকারি অফিসে তিনি এ ধরণের ধর্মীয় ড্রেস কোড চালু করতে পারেন কি না – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো কোনো ড্রেস কোড চালু করিনি। শুধু সবাইকে বলেছি মুসলিমরা যেন তাদের ধর্ম অনুযায়ী পোশাক পরে অফিসে আসেন। ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী জীবন যাপন জরুরি বলেই মনে করি আমি।”

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং তাই অফিস কর্মকর্তা কর্মচারীদের পোশাক নিয়ে এ ধরণের নির্দেশ দেয়ার আগে মন্ত্রণালয় বা সরকারের অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না অনুমতি নেইনি। কারণ এটা তো আমি আমার ইন্সটিটিউটের জন্য দিয়েছি।”

মিস্টার রহিম ওই আদেশে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিসের সময়ে মোবাইল ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ করে রাখারও নির্দেশনা দিয়েছেন।