গুজরাটকে হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে বেঙ্গালুরু

আইপিএলের শ্বাসরুদ্ধকর প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ১০ বল হাতে রেখে বিরাট কোহলির দলকে জেতানোর মূল নায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। মাত্র ৪৭ বলে ৭৯ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করা গুজরাট লায়ন্স নির্ধারিত ২০ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে, ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েও ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বেঙ্গালুরু।

গুজরাটের দেয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ধাওয়াল কুলকার্নির দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৯ রানে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি উইকেট হারিয়ে বিপদের মুখে পড়ে ব্যাঙ্গালুরু। ওপেনার ক্রিস গেইল ৯ রান করলেও অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও ইনফর্ম ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুল রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। তিন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়ে দেন কুলকার্নি। এক রান করা শেন ওয়াটসনকে ফেরান জাদেজা। শূন্য রানে ফেরা শচীন বেবিও কুলকার্নির শিকার হলে দলীয় ২৯ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু।

এরপর ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ও স্টুয়ার্ট বিন্নি। তাদের ৩৯ রানের জুটি ভাঙে ইনিংসের দশম ওভারে। ১৫ বলে ২টি চার ও ১টি ছয় মেরে ২১ রান সংগ্রহ করে রবীন্দ্র জাদেজার বলে ধরাশায়ী হয়ে সাজঘরে ফিরেন বিন্নি।

দলীয় ৬৮ রানের মাথায় বেঙ্গালুরুর ছয় ব্যাটসম্যান ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন প্রোটিয়া তারকা ডি ভিলিয়ার্স। ইকবাল আবদুল্লাহ’র সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটি গড়ে হেরে যাওয়া ম্যাচকে জিতিয়ে ফেরেন ভিলিয়ার্স। ৪৭ বলে ৫টি চার আর ৫টি ছক্কায় ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন ভিলিয়ার্স। আর ২৫ বলে ২টি চার আর একটি ছক্কায় ৩৩ রান করেন আবদুল্লাহ। দু’জনই অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

গুজরাটের হয়ে ধাওয়াল কুলকার্নি ৪ ওভার বল করে ১৪ রান খরচে চারটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া, ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে রবীন্দ্র জাদেজা নিয়েছেন ২টি উইকেট।

এর আগে, টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯ রানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় গুজরাট। ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ১ রানে বিদায় নেন। দ্রুত বিদায় নেন আরেক ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ (৪)। তিন নম্বরে নেমে দলপতি সুরেশ রায়না এক রান করেই সাজঘরে ফেরেন।
চরম বিপাকে পড়া গুজরাটকে টেনে তোলেন দিনেশ কার্তিক এবং ডোয়াইন স্মিথ। এই দুইজন মিলে ৮৫ রানের জুটি গড়েন। ২৬ রান করে ক্রিস জর্ডানের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন দীনেশ কার্তিক। কার্তিকের পর রবীন্দ্র জাদেজা ব্যাট করতে আসলে খুব দ্রুতই ওয়াটসনের বলে গেইলের হাতে ধরা পড়ে ফিরেন তিনি। পরের ওভারেই জুভেন্দ্রা চাহালের বলে বিরাট কোহলির হাতে ধরা পড়ে ফিরে যান ডোয়াইন স্মিথ। ৪১ বল খেলে ৭৩ রান করেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়া, রবীন্দ্র জাদেজা ৩, ডোয়াইন ব্রাভো ৮, দিওভেদি ১৯, কুলকার্নি ১০ রান করেন।

বেঙ্গালুরুর হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট দখল করেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। দুটি করে উইকেট পান ইকবাল আবদুল্লাহ ও ক্রিস জর্ডান। এছাড়া লেগ স্পিনার জুভেন্দ্রা চাহাল একটি উইকেট নিয়েছেন।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাঙ্গালুরুর জয়ের নায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “সত্যি বলতে, যখন ব্যাট করছিলাম আমি বেশ নার্ভাস ছিলাম। কেননা এরকম ম্যাচে বাড়তি একটা চাপ থাকেই, আর দলের যখন পাঁচ উইকেট পড়ে গিয়েছিল তখন খুব কম সময়ের ব্যবধানে আমি একটু নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম আমি যদি শেষ পর্যন্ত থাকি তবে আমরা কাছাকাছি যেতে পারব, কিন্তু আমার পরে কে ব্যাটিংয়ে আসবে আর দলকে জেতাবে এটি নিয়ে আমার মধ্যে ভয় কাজ করছিল। আমি স্মিথকে টার্গেট করে খেলেছি, যখন বাউন্ডারি লাইন থেকে একজন ফিল্ডার সরিয়ে নেয়া হয়েছিল তখন থেকে আমি বল ভালোভাবে দেখে খেলেছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিরাট কোহলি আমাকে আগেই বলেছিল যে আবহাওয়া খারাপ থাকতে পারে, তাই মাথায় অনেক কিছুর চিন্তা রেখেই খেলতে হবে। তবে ভালো লাগছে সবকিছু আমাদের পক্ষেই এসেছে। বোলাররা প্রথমে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে যা আমাদের জয়ের পেছনে বড় একটি ভূমিকা রেখেছে। ওয়াটসনের কথা না বললেই নয়। আমরা এই টুর্নামেন্টে প্রথম দিকে অনেক নিচে ছিলাম আর এখন আমরা ফাইনালে এটিই ভাবতেই বেশ ভালো লাগছে। আমি এর আগে এত দর্শকের সমর্থন অন্য কোথাও দেখিনি, তার আমাদের হয়ে পুরো স্টেডিয়ামে চিল্লিয়েছে। ধন্যবাদ তাদের।”

কোয়ালিফাইয়ার-১ ম্যাচে হেরে গেলেও ফাইনালে উঠার সুযোগ থাকছে গুজরাটের। কোলকাতা নাইট রাইডার্স এবং সানরাইর্জাস হায়দ্রাবাদের মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষে জিততে পারলে ফাইনালে আবারো বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হতে পারবে তারা। -পার্সটুডে

You Might Also Like