‘গাজায় নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে নরঘাতক ইসরাইল’

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক আগ্রাসনে ইহুদিবাদী ইসরাইল আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের পাশাপাশি গাজার হাসপাতালগুলোতে কর্মরত স্থানীয় ও বিদেশি চিকিৎসকরা এ অভিযোগ করেছেন।

 চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, গাজার ঘন-বসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় তেল আবিব নিষিদ্ধ বোমা- ডেন্স ইনার্ট মেটাল এক্সপ্লোসিভ বা ডিআইএমই ব্যবহার করেছে। আমেরিকায় তৈরি হেলফায়ার রকেটের সাহায্যে এ বোমা হামলা চালায় ইহুদিবাদী সরকার।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডিআইএমই বোমায় হতাহতদের শরীরের ক্ষতকে সহজেই প্রচলিত অস্ত্রের আঘাতের ক্ষত থেকে আলাদা করা যায়। ২০০৯ সালে গাজা আগ্রাসনের সময়ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতা উপেক্ষা করে এই নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছিল শিশু হত্যাকারী ইসরাইল। এ ছাড়া, এবারের আগ্রাসনে পরমাণু বোমা তৈরির উপাদান ইউরেনিয়ামও ব্যবহার করেছে তেল আবিব।

গাজা উপত্যকার বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াডের কর্মকর্তা আহমাদ আবুদাইয়া জানিয়েছেন, “গাজার হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যার কাজে ইসরাইল যেসব বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তার প্রায় সবগুলোতে নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া, ইহুদিবাদীরা এ যুদ্ধে এমন কিছু নতুন অস্ত্র ব্যবহার করেছে  যার ধরণ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।”

এদিকে ফিলিস্তিনের মানবাধিকার কেন্দ্র পিসিএইচআর জানিয়েছে, গাজার আবাসিক এলাকায় কোটি কোটি কিলোগ্রাম বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে মানবতার শত্রু ইসরাইল। এসব বিস্ফোরকে নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম মেশানো ছিল। গত ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ৫০ দিনের গাজা আগ্রাসনে ২,১৪০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হন যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক। এবারের আগ্রাসনে নির্বিচারে শিশু হত্যা করায় ইহুদিবাদী ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘শিশু ঘাতক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

You Might Also Like