হোম » গাছকে জেনেটিক্যালি পরিবর্তন করে গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার!

গাছকে জেনেটিক্যালি পরিবর্তন করে গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার!

ঢাকা অফিস- Tuesday, November 28th, 2017

ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি (ডারপা), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীন থিংকট্যাংক বা নতুন সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন সংস্থা।

সম্প্রতি সংস্থাটি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, তারা একটি নতুন প্রকল্পে কাজ করছে যা যুদ্ধক্ষেত্রে কীভাবে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা যায় তাতে পরিবর্তন আনতে পারে।

অ্যাডভান্সড প্ল্যান্ট টেকনোলজিস (এপিটি) নামের এই প্রকল্পের কাজ হচ্ছে, উদ্ভিদকে পরবর্তী প্রজন্মের গোয়েন্দা নজরদারি কাজে পরিণত করার সম্ভাবনা যাচাই করা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রকল্পটি সামরিক বাহিনীকে টেকসই প্রযুক্তির দিকে পরিচালিত করবে, পরিবেশে উদ্ভিদ-ভিত্তিক সেন্সর এবং বিদ্যমান হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে দূরবর্তী নিরীক্ষণ করা যেতে পারে।’

এপিটির লক্ষ্য হলো, গাছপালার প্রাকৃতিক উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়া বিকাশ করা, যাতে ‘নির্দিষ্ট রাসায়নিক, রোগ, বিকিরণ এবং এমনকি ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক সংকেত শণাক্ত করতে পারে।’

জিন এডিটিং কৌশল ব্যবহারে করে ইতিমধ্যে গাছপালাকে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে সফলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। ডারপা প্রত্যাশা করছে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক এই সেন্সরগুলো গাছপালার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রসার প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হবে না।

বর্তমান গবেষণার বাইরেও সংস্থাটির পরিকল্পনা রয়েছে উদ্ভিদের জিন এডিটিং করে একাধিক জটিল প্রক্রিয়া সংশোধন শেষে উদ্ভিদকে বুদ্ধিমান যেমন উদ্দীপক শণাক্তকরণের কাজে ব্যবহার করা।

যেখানে বর্তমানে বেশিরভাগ সামরিক প্রযুক্তি যান্ত্রিক উন্নয়নে কাজ করছে, সেখানে ডারপা সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রকৃতির ওপর নজর দিয়েছে। গাছপালাকে জেনেটিক্যালি পরিবর্তন করে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের জন্য নিখুঁত মনে করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকারক পরিবেশে সৈন্য পাঠানোর ঝুঁকিও সীমিত করবে। এটা অনেকটা মানুষের পরিবর্তে ড্রোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার সুবিধার মতো।

এপিটি প্রকল্পের ম্যানেজার ব্লেক বেক্সটিন বলেন, ‘উদ্ভিদরা তাদের পরিবেশে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিকভাবেই মৌলিক উদ্দীপক যেমন আলো এবং তাপমাত্রার জন্য স্বাভাবিকভাবে সুস্পষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়াগুলো প্রকাশ করে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে স্পর্শ, রাসয়ায়নিক পদার্থ, রোগ, জীবাণু শণাক্তে ব্যবহার উপযোগী।’

বেক্সটিন বলেন, ‘ইমার্জিং মলিকিউলার এবং মডেলিং কৌশলের মাধ্যমে এই শণাক্তকরণ এবং রিপোর্টিং ক্ষমতা রিপ্রোগ্রাম করা সম্ভব হতে পারে, যা শুধু নতুন বুদ্ধিমত্তার প্রবাহকেই উন্মুক্ত করবে না, সঙ্গে প্রচলিত সেন্সরগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির ঝুঁকি এবং খরচ কমিয়ে দেবে।’

জেনেটিক্যালি মডিফাই করা গাছপালাকে আত্মনির্ভরশীল সেন্সর হিসেবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে লাগাতে কাজ করছে ডারপা। কেমিক্যাল, মাইক্রো অর্গানিজম, রেডিয়েশন এবং ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক সিগন্যাল শণাক্ত করা সম্ভব হবে গাছের মাধ্যমে। জিন এডিটিং করে এ ধরনের কাজে গাছকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং নির্দিষ্ট রেসপন্সগুলো পেতে দূর থেকে হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে নজরদারি করতে পারবে। ভূমি, বায়ু, এমনকি মহাকাশ থেকেও উদ্ভিদ নজরদারি প্রযুক্তি ইতিমধ্যে বিদ্যমান।

তথ্যসূত্র : ফিউচারিজম