গরু রক্ষা নিয়ে নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হিন্দুত্ববাদী নেতারা

ভারতে গরু রক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হিন্দুত্ববাদী নেতারা।

অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার জাতীয় মহাসচিব মুন্না কুমার শর্মা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গো-রক্ষার জন্য কিছু ঘটনায় মারপিট করা লোকেদের জেলে পাঠানো হয়েছে কিন্তু ৭০/৮০ শতাংশ লোকের সমাজবিরোধী বলা ভুল।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদি গরু জবাই বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যদিও গরু জবাই আরো বেড়ে গেছে। যদি একজন গোরক্ষকও গ্রেফতার হয় আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করব। মোদি সংসদে দৃষ্টি ঘোরাতে এ ধরণের বিবৃতি দিচ্ছেন।’

অন্যদিকে, কাশী সুমেরু পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী নরেন্দ্রানন্দ সরস্বতী আজ (রোববার) এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি সংবাদ সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে গরু জবাইকারী কিছু লোকের আর্থিক সুবিধা পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী কি দেখতে পাচ্ছেন না দিল্লিতে পাঁচতারা হোটেলে গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে?’

তিনি বলেন, ‘গরু রক্ষা নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, গো সংবর্ধন পরিষদ এবং আরএসএস সবচেয়ে বেশি কথা বলে। তাহলে কী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএস এবং বজরং দলই এ নিয়ে দোকান চালাচ্ছে?’
স্বামী নরেন্দ্রানন্দ সরস্বতী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি আপত্তিজনক। এতে গরু জবাইয়ে উৎসাহ বাড়বে। গো-রক্ষাকারীরা দোকান চালায় না। তারা গরু রক্ষার জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে দেয়।’

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে রতন সিং নামে ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘২০১৯ সালে হিমালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন প্রধানমন্ত্রী।’

বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব আজ টুইটারে একে ‘সত্যের জয় এবং ভণ্ডামির পরাজয়’ বলে মন্তব্য করে বলেন, মোদিজী ভালোমত বুঝতে পেরেছেন ‘গরু দুধ দেয়, ভোট দেয় না’।’

প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গো-রক্ষার নামে দেশে কিছু কিছু স্বঘোষিত মাতব্বররা দোকান খুলেছে। এজন্য আমার খুব রাগ হয়। আসলে এসব গো-রক্ষার দোকানদাররা বেশিরভাগই ‘সমাজবিরোধী’। এই গো-রক্ষকরা সারারাত ধরে অসামাজিক কাজ করে বেড়ায়। আর দিনের বেলায় গো-রক্ষার পোশাক পরে নেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি সমস্ত রাজ্যকে অনুরোধ করছি যাতে তারা তাদের রাজ্যে যারা গো-রক্ষার নামে বাড়াবাড়ি করছে তাদের ফাইল তৈরি করুন। দেখা যাবে স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের ৭০/৮০ শতাংশ সমাজবিরোধী কাজে জড়িত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, অধিকাংশ গরু জবাইজনিত কারণে নয়, প্লাস্টিক খেয়ে মারা যায়। একবার আমি একটি গরুর পেট থেকে পুরো দুই বালতি প্লাস্টিক বেরোতে দেখেছি। এরপরেই এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে।

You Might Also Like