গতিশীল অর্থনীতি গড়তে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে একটি গতিশীল ও বিকাশমান অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, আমাদের সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণকে আরও বিনিয়োগ বান্ধব ও সহজতর করতে বদ্ধপরিকর।

এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে বেগবান করতে বিনিয়োগকারী ফোরাম বিশেষ অবদান রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে বিনিয়োগ বোর্ড আয়োজিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ফোরাম-২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ ফোরামকে আমাদের আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সাথে আরও নিবিড় সহযোগিতা এবং আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছি।

তিনি জানান, বিশ্বমন্দা ও অর্থনৈতিক মন্থরতা সত্ত্বেও বিগত দুই দশক ধরে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও গত পাঁচ বছর ধরে গড়ে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

আমাদের অনেক প্রতিবেশীও নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতির পথে যাত্রা শুরু করেছে।

এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অধিক দেশীয় ও বৈদেশিক বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং বিনিয়োগ ধরে রাখা বিশেষ অবদান রেখেছে।

বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত গতিশীল অর্থনীতিগুলো বিভিন্ন দেশকে আঞ্চলিক ও সমন্বিত উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বের সবচেয়ে কম সংযুক্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া একটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ সার্বিক বৈশ্বিক বিনিয়োগের মাত্র ২ শতাংশ। বিশ্বে গড়ে মাথাপিছু বৈশ্বিক বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিমাণ ৬৪৩ ডলার। অথচ এ অঞ্চলে এর পরিমাণ মাত্র ২০ ডলার।

শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আন্তঃআঞ্চলিক বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ বছরে গড়ে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলার। যা এ অঞ্চলের মোট বিনিয়োগের মাত্র ১ শতাংশ।

অথচ দক্ষিণ এশিয়াতে বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে বাজার সুবিধা এবং মধ্যম আয়ের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী। স্থানীয় ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারও স্ফীত হচ্ছে। বহুমুখী রপ্তানি বাড়ার ফলেও বিনিয়োগ আকর্ষণীয় হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিককালে শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে বাণিজ্যিক সুযোগ সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার, বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মত দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারণাগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অর্থনৈতিক সংস্কার করছে। প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গোপসাগর প্রবৃদ্ধি ত্রিভুজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ত্রিভুজ চীন ও জাপানসহ আমাদের দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশীদের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে অনুঘটকের কাজ করতে পারে।

আমাদের বাণিজ্য প্রত্যাশাগুলো সরাসরি সমুদ্রের সাথে সম্পৃক্ত। ভারত ও মিয়ানমারের সাথে অচিহ্নিত সমুদ্রসীমা ছিল আমাদের বড় ধরনের উন্নয়ন বাধা। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে এ বিষয়ে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান হয়েছে এবং সবাই তাদের প্রযোজ্য অংশ পেয়েছে।

‘সুনীল অর্থনীতি’ সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের অসীম সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে।

বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

You Might Also Like