হোম » ‘গতবার যে ভুল করেছে, এবার হয়ত করবে না’

‘গতবার যে ভুল করেছে, এবার হয়ত করবে না’

ঢাকা অফিস- Thursday, December 7th, 2017

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন পার্টি ইলেকশন করবে, কোন পার্টি করবে না, এগুলো তাদের পার্টির সিদ্ধান্ত। গতবার যে ভুল করেছে, এবার হয়ত করবে না। এবার নাকে খত দিয়ে ইলেকশনে আসবে, সেটাই মনে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার কম্বোডিয়া সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আমরা যে উন্নয়ন করেছি তা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, এতো অল্প সময়ের মধ্যে এভাবে একটা দেশে এতো অবকাঠামোগত বলেন, বিদ্যুৎ বলেন, যে দিকেই আপনি তাকান, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন আমরা করে দিতে পেরেছি। এটা কিন্তু আর কেউ করতে পারেনি।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা নিয়ে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে হচ্ছে, বরণডালা পাঠাতে হবে? কার সঙ্গে আলোচনা! আমার সেটাই প্রশ্ন। প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ফোন করেছিলাম। তারপর যে ঝাড়িটা খেলাম, আমার ওই রকম আর অপমানিত হওয়ার ইচ্ছা নেই, পরিষ্কার কথা। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, যাদের মধ্যে এতোটুকু ভদ্রতা জ্ঞান নেই, তাদের সঙ্গে কথা বলার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মারা গেল। আমি আর যেই হোক বাংলাদেশের তো প্রধানমন্ত্রী। আমার অফিস ফোন করেছে যোগাযোগ করেছে। সবই ঠিক করেছি। আমি গেছি, দরজার কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। তালা দিয়েছে, আমাকে ঢুকতে দেয়নি। এই ধরনের ছোটলোকিপনা যারা করে, তাদের সঙ্গে কথা বলার কথা আপনারা বলেন কোন মুখে। বলুন আমাকে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মেয়ে দেখেই গিয়েছিলাম। না হলে আমার যাওয়ার কথা না। যারা আমাদের বাড়িতে এসে, অন্তত সপ্তাহে একদিন বা মাসে দুই তিন এসে বসেই থাকত। মোড়া পেতে বসে থাকত। মেজর থেকে মেজর জেনারেল জিয়াকে কে বানিয়েছে, আমার বাবা বানিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে আপনারা তাদেরকে নেতা বানিয়েছেন, যারা খুনি, খুনের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশের দূরবস্থার জন্য কে দায়ী? ১৯টি ক্যূ হয়েছে, সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সৈনিক, অফিসারকে হত্যা করেছে জিয়াউর রহমান। তারপর দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে যতটা সহনশীল হতে হয় সব সহ্য করে কষ্টগুলি চেপে রাখতে চেষ্টা করেছি। তারপরও যখন এতো অপমান। এরপর কোন মুখে আপনারা বলেন? আপনি এক বাসায় গেলে দরজা যদি বন্ধ করে দেয় তাহলে আপনি যাবেন। কয়জন যাবেন, আমাকে বলতে পারবেন ?

তাহলে আমার উপর এতো জুলুম কেন করেন আপনারা? কেন এতো জুলুম করেন? আর এখানে পার্টিসেপটরি সিস্টেম, কোন পার্টি ইলেকশন করবে, কোন পার্টি করবে না, সবগুলো তার পার্টির সিদ্ধান্ত। তারা যদি নির্বাচনে আসতে চায় আসবে। এটা তাদের সিদ্ধান্ত। আর যদি করতে না চায়, এটা তাদের পার্টির সিদ্ধান্ত। কাজেই এখানে তো আমাদের কোন কিছু বলার দরকার নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা যদি সত্যিই নির্বাচন করতে চায় তারা নির্বাচনে আসবে। আর যদি পার্টির সিদ্ধান্ত হয় করবে না, তাহলে করবে না। এতো সাধাসাধির দরকারটা কি হল আমি বুঝতে পারলাম না। গতবার যে ভুল করেছে, এবার হয়ত করবে না। এরার নাকে খত দিয়ে ইলেকশনে আসবে। সেটাই মনে হচ্ছে।
তারপর এতিমের টাকা মেরে খাওয়া, মানি লন্ডারিং করা, সৌদিতে এতো সম্পদ এগুলোর তো বিচার হবে। এখন বিচারের হাত থেকে ভাগার জন্য যদি এখন ওই জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর শুরু করে। এবার কিন্তু জনগণ ছাড়বে না। এবার জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জনগণকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা, এটা কেউ বরদাশত করবে না।’