‘গণহত্যায় দায়ীরা বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবেনা’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক সংকটকে আড়াল করতেই আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের জিকির তুলে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে চায়। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিকে রক্ষীবাহিনী স্টাইলে গণহত্যার হুকুম দিয়ে তার দায়ভার প্রধানমন্ত্রী নিজের কাঁধে তুলে নিলেও এরজন্য দায়ী কেউই বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবেনা।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহ উদ্দিন বলেন, ভয়ঙ্কর এই পুলিশি রাষ্ট্রে জনগণ আইন-আদালতের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আমরা শাসকগোষ্ঠীকে আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, স্বৈরতান্ত্রিকতা, একনায়কতান্ত্রিকতা পরিত্যাগ করে গণতন্ত্রের পথে আসুন। দেশকে বাঁচান, মানুষ বাঁচান এবং নিজেরাও বাঁচার চেষ্টা করুন।

আন্দোলনকারী জনগণের লাশের স্তুপ মাড়িয়ে সারাদেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর কুৎসিত অপচেষ্টায় বাংলাদেশ নামক এই জনপদ এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। ভয়ঙ্কর এই পুলিশি রাষ্ট্রে জনগণ আইন-আদালতের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। গণতন্ত্রের শরীরে এতো রক্তপাত জনগণ ইতোপূর্বে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি বলে বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার দ- ঘোষণা করেছেন গতকালের প্রকাশ্য জনসভায় প্রধানমন্ত্রী। আইন-আদালত, বিচার ব্যবস্থার কোন কার্যকারিতা এরপরে আর অবশিষ্ট থাকেনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৩টিরও অধিক মামলায় কোনদিন হাজিরাও দিতে হয়নি তাকে। মোকাবেলাও করতে হয়নি। নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থার কল্যাণে তাকে সকল মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহ উদ্দিন বলেন, হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি’দের স্বঘোষিত দুর্নীতির খতিয়ান দেশের জনগণ ও সারাবিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছেন। অথচ সরকারী প্রভাবে তাদেরকেও পূত-পবিত্র চরিত্রসনদ প্রদান করেছে দুদক। আমরা আগেও বলেছি-শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় আইনের শাসন কামনা করা যায় না।

বিচার বিভাগে নগ্ন হস্তক্ষেপের ফলে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ন্যায় বিচার প্রত্যাশা তিরোহিত হয়েছে অনেক আগেই। তারপরেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা আইনিভাবেই মোকাবেলা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বিবৃতিতে  উল্লেখ করেন, আওয়ামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আওয়ামী মন্ত্রী-এমপি’দের বিরুদ্ধে দুদকের আওতাধীন সকল অভিযোগ ও মামলায় দায়মুক্তি সনদ প্রদানের হিড়িক পড়েছে। মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগও শেষ পর্যন্ত আমলে নেয়া হয়নি।

এসময় তিনি দাবি করেন, স্পষ্টত:ই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে তুমুল বিতর্কিত ও নিবন্ধিত প্রায় সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত এবং বিবর্জিত একটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটকে জঙ্গিবাদের সমস্যা হিসেবে বাজারজাত করার ভাঙ্গা ক্যাসেটটি আওয়ামী লীগ বাজিয়েই যাচ্ছে।

সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি ও ২০ দল ঐতিহাসিকভাবে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আওয়ামী লীগের ভুয়া নির্বাচনের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক মহাদুর্যোগের দায় দেশের জনগণ নিবে না। সেই ভুলের খেসারত আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে বলেন তিনি।

বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সালহ উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ তার ছেলে রেজওয়ানুলকে গুলি করে হত্যা করে। তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে গুলিবিদ্ধ করে। ফেনীতে ছাত্রদল নেতা আরিফকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তার বৃদ্ধ পিতা মফিজুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করে যৌথবাহিনী। এজাতীয় অসংখ্য হত্যাকা-ের প্রত্যেক ঘটনায় উল্টো পুলিশ নিহতদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেছে।

তিনি আরো বলেন, কোন অভিযোগ ছাড়াই শনিবার দিবাগত রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাসা থেকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির না করায় তার পরিবারসহ আমরা গভীরভাবে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। খোকনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তাকে আদালতে উপস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি খোকনকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

You Might Also Like