গণতন্ত্র উদ্ধারের এ লড়াইয়ে জনগণ জিতবেই

ড. এম মুজিবুর রহমান

গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও মানুষের ভোচাধিকার আদায়ের সংগ্রামে আবারো ইতিহাসের কিংবদন্তির পথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া । ইতিহাস স্বাক্ষী তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে পাশ কাটিয়ে ১৯৭০ সালে অখন্ড শেখ মুজিবুর রহমান ইয়াহিয়া খানের এলএফও এর অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।   ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে সোহরোওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষাধিক স্বাধীনতাকামী মানুষের সমাবেশ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের কাছে উল্টো চার দফা দাবী পেশ করেন। এমনকি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন।  দিক নির্দেশনাহীন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন জাতিকে অস্ত্রহাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে সাময়িকভাবে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বায়িত্ব  গ্রহণ করে অফিসিয়াল স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান।

শুরু হয় সিপাহী ও সর্বস্তরের জনতা মিলে মুক্তির যুদ্ধ।  কিন্তু দেশ স্বাধীনের পরে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে মানুষের কন্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট  শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হবার পর তারই সহকর্মীরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। পরবর্তীতে আবারো কায়েমী স্বার্থবাদীরা বাংলাদেশকে পদানত করতে চায়।  ওই সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখতে ১৯৭১ এর মত ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান।

সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার দৃশ্যপটে আসেন। তিনি দেশে প্রতিষ্ঠিত করেন বহুদলীয় গণতন্ত্র।  মানুষ ফিরে পায় কথা বলার স্বাধীনতা।  শেখ মুজিব কর্তৃক বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে  দেশে আবারো রাজনীতি করার সুযোগ পায়, আর ভারত থেকে মুক্ত দেশে ফিরে আসেন তার কন্যা শেখ হাসিনা ।  দেশ এগিয়ে চলে উন্নয়নের দিকে।  স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে এক অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশে পরিনত হতে থাকে। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনসহ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।  আন্তর্জাতিক বিশ্ব বিশেষ করে মুসলিম জাহানের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন এক দূরদর্শী নেতা হিসেবে । ঠিক এমনি এক সময়ে সমপ্রসারণবাদ ও তাদের এদেশীয় দালালদের চক্রান্তে  পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় দেশের সর্বকালের জনপ্রিয় এ নেতাকে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দেশে ফেরার মাত্র ১৭ দিনের মাথায় এ হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয় । গণতন্ত্র আবারো হোচট খায়। কিন্তু শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন আর রাজনৈতিক ভিশন বাস্তবায়নের কঠিন দ্বায়িত্ব এসে পড়ে তারই সুযোগ্য সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়ার উপর।  নয়টি বছর আপোসহীন  সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে হটিয়ে দেশে আবারো গণতন্ত্রের ধারা পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়।  দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে আপোসহীন দেশনেত্রী খেতাবে ভূষিত করে।  সমপ্রসারণবাদ ও তাদের এ দেশীয় দালালরা তাদের চক্রান্ত বন্ধ করেনি। আর তাইতো এদেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বার বার হোচট খেতে হয়। সেসময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করে স্বঘোষিত জাতীয় বেঈমান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে  অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের সহায়তায় ও আধিপত্যবাদী শক্তির নীল নকশায় ২০০৮ সালে  ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তাদেরই একান্ত তাবেদার গণস্বার্থ বিরোধী ও জাতি বিভাজনকারী দল আওয়ামী লীগ। এসময় অত্যন্ত সুকৌশলে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী দেশপ্রেমিক শক্তিকে নির্লজ্জভাবে পরাজিত দেখানো হয়। এর পরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পিলখানায় হত্যাকান্ড এবং প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের ডকট্রিন পরিবর্তন একই সূত্রে গাঁথা ।   যা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অস্তিত্বকে হুমকির সম্মুখীন করেছে।

চানক্যবাদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে দেশনেত্রী বেগম জিয়া বিক্ষুব্ধ জাতিকে সুচিন্তিতভাবে নেতৃত্ব দিতে থাকেন ।  যে কারণে সমপ্রসারণবাদের উপর্যুপরি উস্কানি স্বত্ত্বেও তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছেন । যার সর্বশেষ প্রচেষ্টা হচ্ছে বেগম জিয়া কর্তৃক ৭ দফা প্রস্তাবনা।

ইতিহাসে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে কখনো দেশের মানুষকে জিম্মি করে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচী প্রণয়ন করতে দেখা যায় নি।  কিন্তু সমপ্রসারনবাদের স্বার্থ রক্ষাকারী দেশের স্বার্থবিরোধী অবৈধ ক্ষমতাসীনদের হটকারী কর্মকান্ডে প্রতিনিয়ত গণ অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।  আর তাই অবৈধ ক্ষমতাসীনরা জনমানুষের সামান্য জমায়েতকেও  তাদের হুমকি হিসেবে মনে করছে।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অপশাসন-দুঃশাশনে দেশবাসী অতিষ্ঠ। তারা এ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। সে মুক্তির লড়াইয়ের চুড়ান্ত ডাক দিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ দেশের  সংগ্রামী মানুষ সে লড়াইয়ে জয়ী হয়ে আবারো হৃত গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবেই।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাবেক সহকারী অধ্যাপক শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

 

You Might Also Like