খাসোগি হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেয়ার অন্যতম নায়ক হচ্ছেন ট্রাম্প: হিলারি

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম রাজনৈতিক হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অন্যতম প্রধান অংশীদার।’

কানাডার টরোন্টো শহরে সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই সেক্রেটারি সাংবাদিক খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তাতে খোঁচা মারেন।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের অন্যতম এই প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিযুক্ত করে বলেন, খাসোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্ক ট্রাম্প এবং তার সহকর্মীরা ঠিক যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তাতে করে তারা হত্যাকারীকে রক্ষা করতে চায় বলেই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একজন প্রেসিডেন্ট রয়েছেন যিনি সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সময় যা কিছু হয়েছে তা ধামাচাপা দেয়ার অন্যতম অংশীদার। একই সাথে আমরা এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছি, তিনি এবং তার সহকারীদের এ বিষয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীক স্বার্থ রয়েছে।’

সাংবাদিক খাসোগি ছিলেন ওয়াশিংটন পোষ্টের একজন নিয়মিত কলাম লেখন যিনি প্রায়শই সৌদি আরবের রাজ পরিবারের সমালোচনা করতেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে তার বিবাহের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্য প্রবেশ করার পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন।

এদিকে গত মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্টের গোয়েন্দা সংস্থা সি.আই.এ জানিয়েছে যে, তাদের নিকটে খুবই উচ্চ পর্যায়ের তথ্য রয়েছে যাতে করে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সাথে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রমাণিত হয়।

তবে ট্রাম্প সি.আই.এ’র প্রতিবেদনটিকে এড়িয়ে গিয়ে খাসোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প এমনটি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের পক্ষাবলম্বন করে গত মাসের ২৭ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি অপরাধকে ঘৃণা করি, যা ঘটেছে তাকে ঘৃণা করি এবং আমি কোনো ধরনের ধামাচাপা দেয়ার ঘটনাকে ঘৃণা করি। একই সাথে আমি আপনাদের একথাও বলতে চাই যে, ক্রাউন প্রিন্স এসব বিষয়সমূহকে আমার চাইতেও বেশি ঘৃণা করেন।’

ট্রাম্প প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা খাসোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করার জন্য সৌদি আরবের সাথে সহযোগিতার অবস্থানে থাকবেন।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ‘যদি আপনারা চান প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাক তবে আপনাদেরকে শুধুমাত্র সৌদি আরবের সাথে আমাদের সম্পর্ককে ছিন্ন করে দিতে হবে।’

সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদিকে সমর্থন করার জন্য তার অবস্থান সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে দাবি করেন, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রয়েছে।

ট্রাম্প তার বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধে তারা আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্র। যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের দেশের স্বার্থের জন্য সবসময় সৌদি আরব, ইসরাইল এবং এ অঞ্চলে আমাদের অন্যান্য অংশীদারদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে চায়। আমাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হচ্ছে সারা বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন করা।’

সূত্রঃ এমএসএন ডট কম।

You Might Also Like