খালেদা জিয়ার বিচার ও পরোয়ানা কোন অপরাধে ?

 

এম আবদুল্লাহ :

দেশে যখন নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে এক্টি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চলছে তখন সেই আন্দোলনের প্রধান নেত্রী ২০ দলীয় জোট প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালদো জয়িাকেেক গ্রেফতারের বন্দোবস্ত পাকা করেছে সরকার। তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে গুলশানসহ তিন থানা প্রস্তুত। পরোয়ানাটি এসেছে ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে পরিচালিত একটি ‘বিশেষ’ আদালত থেকে। বুধবার সে আদালতে খালেদা জিয়া উপস্থিত না হওয়ায় তাৎক্ষণিক পরোয়ানা এবং তা অতি দ্রুততার সঙ্গে থানায় পৌছে যায় বেলা গড়াবার আগেই। সর্বশেষ খবর হচ্ছে- খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘিরে পুলিশ ও গোয়েন্দা উপস্থিতি বেড়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেছেন ‘যে কোন মূহূর্তে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে’।

খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের হুমকি শাসক মহল থেকে বেশ কিছু দিন ধরেই উচ্চারিত হচ্ছে। লাগাতার অবরোধ হরতালে সহিংসতার অনেকগুলো মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী এমনকি প্রধান আসামীও করা হয়েছে। ফলে গদি টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টায় সরকার যে খালেদা জিয়াকে কোন এক সময় গ্রেফতার করবেন তা সকলে প্রায় ধরেই নিয়েছিল। খালেদা জিয়াও বলেছেন- গ্রেফতারসহ যে কোন পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রস্তুত, তবু তিনি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে না এনে ঘরে ফিরবেন না।

চলমান আন্দোলন ইস্যুতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের হুমকির বিপরীতে দেশী-বিদেশী মহল থেকে বেশ চাপ ছিল সরকারের ওপর। ফলে বেশ কবার গ্রেফতারের চিন্তা করেও পরে পিছু হটে। অবরুদ্ধ করে রেখেই পরিস্থিতি সামলানোর কৌশল নেয়। কিন্তু এবার গণতন্ত্রের পক্ষের দেশী-বিদেশী মহলগুলোকে বিভ্রান্ত করার জন্য সরকার নতুন কৌশল নিয়েছে। কথিত দুর্নীতি মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করে গ্রেফতার করে সরকার যথারীতি প্রোপাগান্ডা চালাবে যে তিনি ‘দুর্নীতি’ বা ‘এতিমের অর্থ চুরি’র জন্য গ্রেফতার হয়েছেন। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকাবে বলে সরকারের ধারণা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে দু’টি মামলায় বিচার চলছে এবং বুধবার পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তা কি আসলে দুর্নীতি মামলা? খালেদা জিয়া কি আসলে রাষ্ট্রীয় কোন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ কামিয়েছেন? বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রায় নিয়মিতই লেখা হচ্ছে ‘দুর্নীতি মামলা’। দু’এক বছর আগেও লেখা হতো ‘অর্থ লেনদেনে অনিয়মের মামলা’। হালে আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডায় গা ভাসিয়ে দু’একটি বাদে সব টিভি ও পত্রিকায় মামলা দু’টিকে ‘দুর্নীতির মামলা’ হিসেবে প্রচার করছে। একটি মামলার উৎপত্তি ২৪ বছর আগে ১৯৯১ সালে। আরেটি দশ বছর আগে ২০০৫ সালে। হালের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় যখন দুদক দায়মুক্তি সনদ বিতরণ করছে তখন অপ্রমাণিত পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ মাথায় নিয়ে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হচ্ছে-এখন এটা প্রায় নিশ্চিত।

কেবল মাত্র সরকারি প্রোপাগান্ডা ও মিডিয়াকে দুষলেও অবিচার করা হবে বৈকি। কারণ বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সচেতন ও সক্রিয় অনেক নেতা-কর্মীও জানেন না যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচার চলা মামলা দু’টিতে আসলে খালেদা জিয়ার দায় কতটুকু? আদৌ কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা? হলে খালেদা জিয়া তার মাধ্যমে কতটাকা কামিয়েছেন?

এ ব্যাপারে মামলার উৎপত্তি থেকে শুরু করে পুরো ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণে দেখা যায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনে বড় ধরণের কোন দুর্নীতির অভিযোগ নেই। এ দু’টি ট্রাস্টে লেনদেনকৃত অর্থের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্কও নেই। বেসরকারি ট্রাস্ট দু’টিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে যেটুকু অস্বচ্ছতার অভিযোগ করা হয়েছে তা এ ধরণের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হরহামেশাই ঘটছে। আর লেনদেন অনিয়মের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমানও সোয়া কোটি টাকা থেকে দেড় কোটি টাকার মধ্যে যার সঙ্গে খালেদা জিয়ার সরাসরি কোন সম্পৃক্ততাই নেই।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা :

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ২০০৫ সালে কাকরাইলে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে জমি কেনা হয়। খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে পদাধিকারবলে এ ট্রাস্টেরও চেয়ারপার্সন। জমি কেনায় বাজারমূল্যের চেয়ে বিক্রেতাকে বেশি টাকা দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী কমিশনার হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে খালেদা জিয়াসহ ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অপর আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরী, তার তখনকার এপএিস জিয়াউল ইসলাম (মুন্না) ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম খান।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে একটি হিসাব খোলা হয়। এতে জমা হয় ৭ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা। এর মধ্যে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা বিএনপির দলীয় তহবিল থেকে আসে। বাকি টাকার মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড এবং ২৭ লাখ টাকা জিয়াউল ইসলামের কাছ থেকে ওই হিসাবে আসে। ট্রাস্টের নামে যে জমি কেনা হয়েছে, তাতে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বিক্রেতা সুরাইয়া খানমকে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি দেয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খান।

গত বছরের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় দায়ের করা এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

মামলায় বলা হয়, ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে একটি হিসাব খোলা হয়। এতে ৭ দিনের মধ্যে জমা হয় ৭ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা। এর মধ্যে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা বিএনপির দলীয় তহবিল থেকে আসে। বাকি টাকার মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড এবং ২৭ লাখ টাকা জিয়াউল ইসলামের কাছ থেকে ওই হিসাবে আসে।

দুদকের অভিযোগ, বিএনপির দলীয় ফান্ডের টাকা ছাড়া বাকি টাকার কোনো বৈধ উৎস নেই। তখনকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার দাপ্তরিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ওই অর্থ সংগ্রহ ও জমা করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এফ এস জাহাঙ্গীর ট্রাস্টে টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম মেট্রো মেকার্সের নাম ব্যবহার করে ওই অর্থ জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে মনিরুল ইসলাম দুদককে বলেছেন, হারিছ চৌধুরীর দেওয়া টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে তিনি ওই হিসাব নম্বরে জমা দিয়েছেন। একইভাবে জিয়াউল ইসলামও বলেছেন, নির্দেশ ছিল বলেই তিনি টাকা জমা দিয়েছেন।

পুরো মামলা, তদন্ত রিপোর্ট ও অভিযোগপত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ‘শহীদ জিয়া চ্যারটেবল ট্রাস্ট’ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সেই ট্রাস্টের জন্য জমি কেনা হয়েছে। জমি কেনার অর্থেও মধ্যে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা অর্থাৎ সিংহভাগ অর্থই বিএনপি’র তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে এবং তার ব্যাপারে কোন অভিযোগও নেই। অভিযোগ হচ্ছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নিয়ে। এটাকা দু’জনের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে ওই দু’জনের বৈধ লেনদেন থেকে সে টাকা আসেনি। ফলে তারা তা অস্বীকার করেছেন। তবে যার হাত দিয়ে লেনদেন হয়েছে সেই মনিরুল ইসলাম বলেছেন, হারিছ চৌধুরী টাকাটি পে অর্ডার করে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে তাকে দিয়েছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে-এ পুরো ঘটনায় খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা কতটুকু? হ্যাঁ তাকে টানা হয়েছে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন হিসেবে। তা মেনে নেয়া হলেও ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা তাদের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান কিভাবে সংগ্রহ করেছে বা কিভাবে ব্যবহার করেছেন তা তাদের নিজস্ব বিষয়। প্রক্রিয়াগতভাবে লেনদেনটি স্বচ্ছ না অস্বচ্ছ তা আদালত বচিার করব।ে কিন্তু তাতে কি খালেদা জিয়ার দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নত করা যায়? এ ধরণের লেনদেন ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কি অহরহ হচ্ছে না? কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেয় এবং হেনস্থার জন্য এ বিষয়কে জাতীয় রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নজীর কি আর পাওয়া যাবে?

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগটি ওয়ান-ইলেভেনের জরুরী সরকারের সময়কার। তখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য কোন দুর্নীতির প্রমাণ না পেয়ে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিয়ে।

ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা লেনদেনে অনিয়ম করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। তারেক রহমান দেশের বাইরে আছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন।

মামলাটি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অপর ৪ জনকে অভিযুক্ত করে বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এই মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯১-১৯৯৬ সময়কালে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় একটি হিসাব খোলেন। একটি বিদেশি সংস্থা ১৯৯১ সালের ৯ জুন ওই হিসাবে ইউনাইটেড সৌদি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা দেয়।

ওই টাকা দীর্ঘ দুই বছর কোনো এতিমখানায় না দিয়ে জমা রাখা হয়। এরপর জিয়া পরিবারের তিন সদস্যকে (তারেক, আরাফাত এবং মমিনুর) দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করে এর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই ট্রাস্ট গঠনের ক্ষেত্রে সরকারী নীতিমালা মানা হয়নি। এছাড়াও ট্রাস্টের ঠিকানা হিসেবে খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের ৬ নম্বর মইনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই টাকা দুইভাগে ভাগ করে ট্রাস্টের বগুড়া ও বাগেরহাট শাখার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, ১৯৯৩ সালে অনুদানের অর্থ থেকে বগুড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫’শ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই অর্থ থেকে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ট্রাস্টের নামে বগুড়ায় প্রায় তিন একর জমি কেনা হয়। কিন্তু অবশিষ্ট টাকা এতিমখানায় ব্যয় না করে দীর্ঘ ১৩ বছর ব্যাংকে জমা রাখা হয়। পরে তা সুদে আসলে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭’শ ৫৭ টাকায়। ২০০৬ সালে তারেক রহমান ও মমিনুর রহমানকে দিয়ে তিন কিস্তিতে ৬ টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা তুলে প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করেন।

মামলা ও চার্জশীটের বিবরণ পড়লে কোথাও খালেদা জিয়া ওই টাকা আত্মসাত করেছেন এমন তথ্য নেই। এতিম খানার জন্য জমি কেনা ছাড়া বাকি টাকা ১৩ বছর যাবত ব্যাংকে সংরক্ষণ করেছেন এবং তা তছরুফ করেননি। কাজী সলিমুল হকসহ অন্যরা কিভাবে যুক্ত হলেন এবং কোন খাতে টাকাগুলো পরে ব্যবহার করেছেন সে তথ্যও মামলায় নেই। পুরো লেনদেনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা কতটুকু তাও স্পষ্ট করা যায়নি। তার পরও ধারাবাহিক প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে যে তিনি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। মেরে খেতে চাইলেতো তিনি ক্ষমতায় থাকতেই পারতেন। ১৩ বছর তা সংরক্ষণ করতেন না।

যে দেশের অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের পর বলেন- এটা তেমন কোন টাকা নয়, সে দেশে দু’টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুই মামলায় মিলে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার লেনদেনে খানিকটা অনিয়মের জন্য দুর্নীতির তকমা নিয়ে জেল ও বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আর তিনি এমন এক অপদার্থ নেতাদের নেতৃত্ব দেন যে দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করে কথা বলা বা প্রোপাগান্ডার জবাব দেয়ার ন্যুনতম যোগ্যতা ও তাগিদ নেই।

 

 

You Might Also Like