খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় থেকে পুলিশ প্রত্যাহার

মঈন উদ্দিন খান : টানা ১৬ দিন পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে সব ধরনের পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রোবার রাত আড়াইটায় হঠাৎ করে একে একে সরিয়ে নেয়া হয় কার্যালয় ঘিরে থাকা পুলিশ। নিয়ে যাওয়া হয় কার্যালয়ের দিকে তাক করে রাখা জলকামান, রাস্তাজুড়ে এলাপাথাড়ি করে রাখা পুলিশের বেশ কয়েকটি ভ্যান।

গুলশান ২ এর ৮৬ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাসাটিই খালেদা জিয়ার কার্যালয়। গেল ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে ঢাকায় বিএনপি সমাবেশ ডাকায় এ কার্যালয় ঘিরে নানা নাটকীয়তার জন্ম হয়। ৩ জানুয়ারি শনিবার রাত ৮টার দিকে কার্যালয়ে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে। খালেদা জিয়ার কার্যালয় ও পাশেই তার বাসভবন ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রাত ১০টার পর খালেদা জিয়া নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অসুস্থ রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে বের হতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। কার্যালয়ের ভিতরেই তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর থেকেই র‌্যাব-পুলিশের বেষ্টনির মধ্যেই খালেদা জিয়া কার্যালয়ে অবস্থান নেন। ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে অনড় খালেদা জিয়াকে বাসা থেকে বের হতে না দিতে আগের রাতেই ইট-বালু ভর্তি ১১টি ট্রাক দিয়ে সব পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়। ৫ জানুয়ারি সকালে আরো কয়েকটি ইট বালু ভর্তি আনা হয়। দুই শতাধিক পুলিশ দিয়ে পুরো গুলশান এলাকা কর্ডন করে রাখা হয়।

ওই দিন বিকেলে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হতে চাইলে বাইরে থেকে তালা মেরে কার্যালয়ের ভিতরেই তাকে আটকে দেয়া হয়। মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা গেট খুলে দেয়ার দাবিতে চিৎকার করলে দুই দফা পেপার ¯েপ্র করা হয়। পরে খালেদা জিয়া প্রায় ৪৫ মিনিট পর গাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সমাবেশ করতে না দেয়ায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেন তিনি। খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেয়ার সময়েও পেপার ¯েপ্র করে পুলিশ। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পরেন। মহিলা দলের ১০ নেতাও অসুস্থ হয়ে পরেন। ৩ দিন অসুস্থ ছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে টানা ১৬ দিন কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন পার করেন তিনি। কার্যালয়ের দোতলায় অফিস কইে হয় তার থাকার জায়গা। খাবার আনা হয় বাইরে থেকে। আত্মীয় স্বজনরাও মাঝে মাঝে খাবার নিয়ে আসেন। অবরোধ পরিস্থিতি কার্যালয়ের ভিতরেই বসে মনিটর করেন তিনি। এই ১৬ দিনে তার সাথে কেউ দেখা করতে পেরেছে, কেউ পারেনি। কখনো তালা খোলা হয়েছে, কখনো লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই নানারকম গুঞ্জন উঠে। রাত ১০টায় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায় আগের মতোই পুলিশি বেষ্টনি রয়েছে। রাত ১২ টার পর একটু শিথিলতা দেখা যায় নিরাপত্তায়। রাত আড়াইটার দিকে দেখা যায় সব নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে।

দায়িত্বরত এক পুলিশ অফিসার এসময় নয়া দিগন্তকে বলেন, উপরের নির্দেশে তারা চলে যাচ্ছেন। কার্যালয়ের ভিতর থেকে চেয়ারপারসনের মিডিয়া শাখার সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, সব নিরাপত্তা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। ম্যাডামের ব্যক্তিগত প্রোটকল আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

You Might Also Like