হোম » খালেদা জিয়াকে কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে একাকি রাখা হয়েছে: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে একাকি রাখা হয়েছে: ফখরুল

ঢাকা অফিস- Monday, February 12th, 2018

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত ও স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে একাকি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। সন্ধ্যা ৭টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “একদলীয় স্বৈরাচারী কায়দায় তারা দেশ চালাচ্ছে। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় আসার জন্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় আমাদের চেয়ারপারসনকে দণ্ড দিয়েছে। কারাগারে তাঁকে অমানবিক পর্যায়ে রাখা হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “শনিবার দলের পাঁচ আইনজীবী কারাগারে চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাকে পুরোপুরি সলিটারি কম্পার্টমেন্টে (একলা কক্ষে) নির্জন পরিবেশে রাখা হয়েছে। যেখানে এখন কেউ বাস করে না, ভবনগুলো পরিত্যক্ত স্যাঁতস্যাঁতে। সারাজাতি শুনে ব্যথিত যে, তাকে এখন পর্যন্ত ডিভিশন (জেলকোড অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা) দেয়া হয়নি। তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ, তার যে সার্বক্ষণিক পরিচারিকা, জেলকোড অনুযায়ী তাকেও তার সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়নি।”
এটাকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জেলকোডে পরিষ্কার বলা আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলের নেত্রী ডিভিশন পাবেন, এজন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমরা অবিলম্বে তার মর্যাদা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সরকারকে দায়ী থাকতে হবে জেলকোড ভঙ্গ করার জন্য।”

বিএনপি মহাসচিব জানান, “খালেদার অনুপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো চলতে থাকা এ বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণামূলক। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব জানান, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সাড়ে তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে নেতারা তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের নামে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।