খালেদার জন্য শতাধিক তোরণ, ৬০ ফুটের মঞ্চ

দীর্ঘ ছয় বছর পর নাটোরের ভাষণ দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে তার জন্য বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়োজন করেছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠ জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালে নাটোরের জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে ১৯ ডিসেম্বর নাটোর শহরের কানইখালী স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রেখেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া ২০১০ সালে ৮ অক্টোবর বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবু নিহত হলে ১১ অক্টোবর বাবুর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তিনি নাটোরের বনপাড়ায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি বনপাড়ায় শোকসভা করেন।

জনসমাবেশস্থল নাটোর নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠের দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে ৬০ ফিট প্রস্থ ও ৪০ ফিট দৈর্ঘ্যর সুবিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চে একসঙ্গে তিনশ নেতাকর্মী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। সভাস্থল থেকে ভাষণ শোনার জন্য শহর জুড়ে দুইশতাধিক মাইক লাগানো হয়েছে।

মঞ্চের সামনে বিএনপির সব অঙ্গ সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা মাঠে আলাদা রংয়ের পোশাক পরে আলাদা ভাবেই অবস্থান করবেন। এর মধ্যে ছাত্রদল লাল গেঞ্জি, যুবদল সবুজ গেঞ্জি, স্বেচ্ছাসেবক দল হলুদ গেঞ্জি, ওলামা দল সাদা পায়জামা পাঞ্জাবী ও টুপি, কৃষকদল মাথায় মাথাল, তাঁতীদল ঘাড়ে গামছা ও মৎস্যজীবী দল ধুতি গেঞ্জি পড়ে এবং মাছ ধরার সামগ্রী হাতে নিয়ে মাঠে অবস্থান করবে।

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিকদল জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমর্থকদের জন্য মাঠের পশ্চিমপাশে জায়গা রেখে মাঠের অন্য সব অংশ বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ভাগে যার যার রংয়ের পোশাক পড়ে হাতে রঙিন বেলুন নিয়ে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক অবস্থান করবে। খালেদা জিয়া মাঠে আগমনের পর এক সঙ্গে পুরো মাঠে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক এসব গ্যাসভরা বেলুন আকাশে উড়িয়ে দিবে।

মাঠের তিন পাশে থাকবে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নাটোর জেলা শাখার মেডিকেল ক্যাম্প। সভাস্থলে কেউ অসুস্থ হলে যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য। মাঠের পশ্চিম পার্শ্বে থাকবে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও অজুর ব্যবস্থা। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী গণশৌচাগার।

সমাবেশের সভাপতি নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাড. এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হলেও সকাল ১০টার মধ্যেই নাটোর সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের রাস্তাঘাট মানুষে ভরে যাবে। দুপুরের আগ পর্যন্ত কণ্ঠশিল্পী ও জাসাস সাধারণ সম্পাদক মনির খান, কনকচাঁপা ও রিজিয়া পারভীন সংগীত পরিবেশন করবেন। জোহরের নামাজের পর সমাবেশ শুরু হবে।

২০ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহম্মেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, ইসলামী ঐক্যজোটের আব্দুল লতিফ নেজামী, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. ইসহাক, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, এনডিপির খন্দকার গোলাম মতুর্জা, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মাস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের জেবেল রহমান গাণি ও সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদসহ ২০ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

You Might Also Like