খালেদার আলোচনার প্রস্তাব আ.লীগের নাকচ

আলাপ-আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, দেশে এমন কোনো সংকট নেই যে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

তিনি বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার নয়পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা চাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। গণতন্ত্রের জন্য এক সঙ্গে কাজ করতে।

তিনি সরকারকে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা জোর করে ক্ষমতায় আছে, তাই তাদেরই এটা করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, দেশ প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এখানে কোনো সংকট নেই। সংকট আছে পাকিস্তানের খালেদা জিয়ার মধ্যে। ব্যক্তির সংকট নিয়ে আলোচনা হয় না।

তিনি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, সন্ত্রাস করে, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, দেশের মানুষ কোনো খুনি-হত্যাকারীর সঙ্গে আলোচনা পছন্দ করে না। বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানানো হলেও তারা আসেনি। বরং ১৪৭ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, মানুষ খুনের জন্য খালেদা জিয়া কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি। তার উচিৎ দুঃখ প্রকাশ করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।

জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফাঁসির রায় বহাল রাখায় জাতির সঙ্গে আওয়ামী লীগও সন্তুষ্ট। আমরা মনে করি এর মধ্যদিয়ে জাতি অভিশাপ মুক্তির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।

জামায়াতের হরতাল বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো হরতাল হবে না। হরতাল হলে পাকিস্তানে হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে হানিফ জানান, বিশ্ব ইজতেমার কারণে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের জনসভা ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর সোহরওয়ার্দী উদ্যানের ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই আমরা ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জনসভা করে থাকি। কিন্তু এবার ওইদিন বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত। এজন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনসভা ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনে এর আগে কার্যালয়ে যৌথসভা হয়। এতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভাপতিত্ব করেন।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like