ক্ষমতা হারাতে পারেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত কি না তার উত্তর মেলেনি এখনো। তবে খাশোগি ঘটনায় ক্ষমতা হারাতে পারেন যুবরাজ।

ব্রিটেনে স্বেচ্ছা-নির্বাসন কাটিয়ে মঙ্গলবার নিজ দেশে ফিরেছেন যুবরাজের চাচা আহমেদ বিন আবদেল আজিজ (৭০)। বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি রাজ পরিবারের জ্যেষ্ঠ এই সদস্যের প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তিনি যুবরাজ মোহাম্মদের জায়গা নিতে পারেন ।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কারণে এখনো চাপের মুখে রয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যদিও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবরাজের সম্পর্ক নেই বলে সৌদি তরফে বলা হচ্ছে।

এদিকে রিয়াদে সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদেল আজিজের ছোট ভাই আহমেদ বিন আবদেল আজিজের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কিছু জানায়নি। কী শর্তে তিনি ফিরেছেন তাও স্পষ্ট নয়। তবে মনে করা হচ্ছে যে, নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা পেয়েই দেশে ফিরেছেন আহমেদ।

যুবরাজ মোহাম্মদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন ব্যাপক বিতর্ক চলছে সে দেশে। খাশোগি ঘটনায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। জল্পনা চলছে, সামনে আসতে পারেন তার চাচা আহমেদ।

প্রসঙ্গত, সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে আর বেরিয়ে আসেননি। সেখানে নির্মমভাবে খুন হন খাশোগি।

প্রথমদিকে এই হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করলেও পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রথমে সৌদি আরব জানায়, কনস্যুলেটের ভেতরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে খাশোগি নিহত হয়েছেন। এরপরে তারা জানান, খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। রিয়াদ সরকার এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ভুল’ বলে স্বীকার করেছে।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে শুরু থেকেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ, যুবরাজের সমালোচক ছিলেন সাংবাদিক খাশোগি।

সৌদি আরব বলেছে, নিয়ম ভঙ্গকারী একদল এজেন্ট তাকে হত্যা করেছে এবং সৌদি যুবরাজের সাথে এ ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। এ ঘটনায় সৌদি আরবে কিছু লোককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলিকে বের করতে হবে- খাশোগি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং তাকে হত্যার জন্য ১৫ জনের একটি দলকে ইস্তাম্বুল পাঠিয়েছিল কে।

এদিকে জাতিসংঘ খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত কাজে অংশ নিতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্যে সৌদি আরবের প্রতি আহবান জানিয়েছে ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট বলেছেন, খাশোগির মরদেহ কোথায় আছে সৌদি কর্তৃপক্ষকে সেটাও খোলাসা করতে হবে। তার মৃতদেহের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।

You Might Also Like