‘ক্ষমতায় আসলেই জঙ্গিবাদের রাজত্ব কায়েম করে বিএনপি-জামায়াত’

ক্ষমতায় আসলেই বিএনপি-জামায়াত দেশে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাপক অর্থ পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের রাজত্ব কায়েম করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মিলানের হোটেল মিলানেফিয়োরিতে আওয়ামী লীগ ইতালি ইউনিট আয়োজিত স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া এক সংবর্ধনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের ইতালি ইউনিটের সভাপতি ইদ্রিস ফরায়েজির সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সর্ব ইউরোপীয় অনীল দাস গুপ্তা, সাধারণ সম্পাদক এসএ গণি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহম্মদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সাধাররণ মানুষ, পুলিশ, বিজিবি সদস্য এবং সেনাবাহিনীর সদস্যকে পর্যন্ত হত্যা করেছে। পবিত্র কোরআন পোড়ানো এবং মসজিদে হামলাসহ দেশজুড়ে অরাজকতা তৈরি করেছিলো। তিনি বলেন, তারা শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রিয় নেতাকে হত্যা করেছে। বিএনপি-জামায়াত চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি ৭৫’ এর পর জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে বাংলাদেশকে হত্যাকারীদের দেশে পরিণত করেছিল। সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে এরশাদ ও খালেদা জিয়া হত্যাকারীদের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী নেতা করেন এবং বিদেশি বিভিন্ন মিশনে তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন।

দেশের ভাবমূর্তী ও মর্যাদা উজ্জ্বল করতে প্রবাসীদের প্রতি সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যখনই কোন সংকটে পড়েছে তখনই প্রবাসী বাংলাদেশিরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেছে।

সরকারের ৫ বছর ৮ মাসের সাফল্যের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা এ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবো। ইতোমধ্যেই আমরা ভারত এবং মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছি। এ বিশাল সমুদ্রসীমা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় বাস্তবায়ন করছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে এক বড় কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছে।

You Might Also Like