ক্রান্তিকালের অনেক শঙ্কা

আমাদের যাঁদের বয়স ষাটোর্ধ্ব তাঁদের মাঝেমধ্যে দেশে চলমান কিছু ঘটনা দেখলে নানা কারণে শঙ্কিত হতে হয়। আমাদের প্রজন্ম পাকিস্তান আমলে দুটি সেনা শাসন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আলামত দেখেছে এবং যুদ্ধে গেছে; আবার স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্ধকারের শক্তির আগমন-পূর্ববর্তী প্রস্তুতি পর্ব দেখেছে। বঙ্গবন্ধু যে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশকে পেয়েছিলেন, তা বর্তমান প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না। আগের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ত্রাণ হিসেবে আসত চাল আর গম। অনেক বাড়িতে রিলিফের চাল না এলে চুলায় হাঁড়ি চড়ত না। ভারত থেকে আসত সস্তা সুতি শাড়ি ও লুঙ্গি। পূর্ব ইউরোপ থেকে আসত ছেলেদের লাল কাপড়ের জুতা আর ওষুধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু সাহায্যের কল্যাণে সবার কপালে জুটত পুরনো কাপড়। অনেক পুরুষ মানুষকে দেখেছি, মেয়েদের কোট পরে রাস্তায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের পাড়ার হানিফ মেয়েদের হিলওয়ালা জুতা পরে বেশ স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াত। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বে বেড়ে গেল তেলের দাম। পর পর বন্যার কারণে বাংলাদেশের দুটি ফসল পানিতে তলিয়ে গেল। দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বাংলাদেশের মানুষের অবস্থা তখন অত্যন্ত নাজুক। ৪০ টাকা মণের চালের দাম রাতারাতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় উঠল। কোনো দেশ আর খাদ্য সাহায্য দিতে প্রস্তুত নয়। কারণ নিজেদের দেশের মানুষকে আগে খাবার দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র পিএল-৪৮০-এর অধীনে বাংলাদেশকে কিছু গম ও চাল পাঠাতে রাজি হলো। দেশের মানুষ আশায় বসে আছে—কখন আসবে সেই জাহাজ। হঠাৎ খবর এলো, সেই জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে। কারণ এর আগে বঙ্গবন্ধু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রু রাষ্ট্র’ কিউবার কাছে কিছু পাটের বস্তা বিক্রি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাহায্য পেতে হলে তাদের শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের বাণিজ্য করা চলবে না।

দেশে দেখা দিল চরম খাদ্যাভাব। এই খাদ্যাভাবকে পুঁজি করে দেশের এক শ্রেণির টাউট-বাটপার, স্বাধীনতাবিরোধী আর জাসদের হঠকারী রোমান্টিক বিপ্লবীরা শুরু করে দিল সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র। তাদের বেশির ভাগই নব্য আওয়ামী লীগার অথবা ১৬ই ডিসেম্বরের পর সাজা মুক্তিযোদ্ধা। জাসদ গঠন করল গণবাহিনী নামের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী, যাদের কাজ ছিল খাদ্যের গুদাম, সারের কারখানা আর পাটের গুদামে আগুন লাগানো। একে তো দেশে চরম খাদ্যাভাব, অন্যদিকে এসব অন্তর্ঘাতমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তাদের অনেকেই মওলানা ভাসানীর ন্যাপের ছাতার নিচে আশ্রয় নিল। নিয়মিত বিরতি দিয়ে মওলানা ‘ভুখা মিছিল’ বের করেন। কোনো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের জোগান ও মূল্য নিয়ে কারসাজি করার মতো মারণাস্ত্র আর কিছু নেই। তার সঙ্গে চাই সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। সৃষ্টি হলো ফটোগ্রাফার আফতাব আহমেদের সেই ছেঁড়া জাল পরা চিলমারীর মানসিক ভারসাম্যহীন বাসন্তীর ছবি। খালেদা জিয়া আফতাব আহমেদকে একুশে পদকে ভূষিত করেছিলেন। একজন কবি বঙ্গবন্ধুকে হারামজাদা সম্বোধন করে লিখলেন, ‘ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।’ সেই কবিকে অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ২০১৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। এর আগে ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি পদক। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানা বেঁচে যাওয়ায় এক সাপ্তাহিক পত্রিকায় আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, ‘সাপটা মরে গেল, কিন্তু তার দুটি ছানা বেঁচে রইল।’ সেই লেখককেও আওয়ামী লীগ সরকার বাংলা একাডেমি পুরস্কার দিতে কার্পণ্য করেনি।

সময়মতো যদি সরকারে ও আমলাতন্ত্রের ভেতরে কিছু নিজস্ব মানুষ ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই। তখন সরকারের আর কোনো বিরোধীপক্ষের প্রয়োজন নেই। এমন ঘটনা আলজেরিয়া, চিলি, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ডে একাধিকবার ঘটেছে। সবাই মিলে ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে নানা মিথ্যা অজুহাতে রাস্তায় নামানো; আর একবার মানুষকে রাস্তায় নামাতে পারলে তখন পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে বেশি সময় লাগে না। তখন ঘোলা পানির মত্স্য শিকারিরা মাঠে নেমে পড়ে। বঙ্গবন্ধু সরকারকে উত্খাত এবং তাঁকে সপরিবারে হত্যা করার জন্য তাঁর সরকারের অন্দরমহলের মানুষদের সহায়তায় অন্ধকারের মানুষরা প্রায় এক বছর চেষ্টা করে সফল হয়েছে।

বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাসজনিত কারণে যে ক্রান্তিকাল চলছে তাকে পুঁজি করে একটি শক্তিশালী মহল শেখ হাসিনার সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। আর এই কাজে সামনের কাতারে আছে সরকারের ভেতরের কিছু মন্ত্রী, আমলাতন্ত্রের একটি বড় অংশ আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি পোশাক শিল্প মালিক গোষ্ঠী। বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি এই শ্রেণির দাপটের কারণে অন্য সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ এখন সর্বক্ষেত্রে কোণঠাসা; সরকারও তাদের কাছে অনেকটা অসহায়। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই, তৈরি পেশাক শিল্প এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বিরাট ভূমিকা রাখছে। রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ এই খাত থেকে আসে। জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে তাদের অবদান কৃষির সমান—১৩ শতাংশ। ৪০ লাখের বেশি মানুষের জন্য এই খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এই সুবাদে এই খাতের মালিকরা সরকার থেকে যে ধরনের সুবিধা নিয়মিত আদায় করেন, তা অন্য খাতের মালিকদের জন্য স্বপ্ন। এই শিল্পের মালিকরা নানা অজুহাতে সরকার থেকে প্রণোদনার প্যাকেজ আদায় করেন; ব্যাংক-বীমার মালিক তাঁরা, নিয়ন্ত্রণ করেন দেশের মিডিয়া, রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায় তাঁদের আধিপত্য নিরঙ্কুশ, যাঁর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, সেই ব্যক্তি একদিন হয়ে যান সংসদ সদস্য, মন্ত্রী। বিদেশের বেগমপাড়ায় তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বেশ আরামেই থাকেন, সেখানে তাঁদের কদর বেশ, অনেকে আবার কমিউনিটি লিডার। আর কী চাই? এসবের সঙ্গে সরকারের সর্বনাশ করতে সরকারঘনিষ্ঠ হয়েছে অন্য দল, বিশেষ করে জামায়াত থেকে আসা মৌসুমি পাখিরা। জাদুমন্ত্রবলে তারা বাগিয়ে নিয়েছে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ। ওপরে সরকারের মানুষ, ভেতরে অন্যদের জন্য ওভারটাইম কাজ করে। একজন শেখ হাসিনা কত দিক সামলাবেন? দেশের বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না থাকলে বাংলাদেশ হয়ে উঠত আফ্রিকার কোনো এক গোষ্ঠীগত দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকা।

সরকারকে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বেকায়দায় ফেলার জন্য অনেকে চেষ্টা করছেন, কিভাবে মানুষকে রাস্তায় নামানো যায়। এই কাজের প্রধান উদ্যোক্তা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা। তাঁরা তাঁদের শ্রমিকদের লকডাউন অবস্থায় ডেকে পাঠালেন কারখানায় কাজ করতে। রাস্তায় যানবাহনের অভাবে সবাই হেঁটে এক-দেড় শ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম আর নারায়ণগঞ্জে চলে এলেন। সরকারের নির্দেশে আবার বলা হলো—কারখানা খুলবে না, সবাই আবার ফিরে যান। ঠাট্টা-মসকরার একটা সীমা থাকে। বেতন দেওয়ার প্রশ্ন এলে বলেন, টাকা নেই। সরকার বলল, শ্রমিকদের বেতনের সহায়তা দেবে এবং তা তাঁদের সরাসরি দেওয়া হবে। মালিকরা বলেন—না, আমাদের দিতে হবে। সরকার ঘোষণা করল, তা হবে না। টাকা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি যাবে, মালিকরা তা পরে ফেরত দেবেন। মালিকদের দাবি, তা হবে বিনা সুদে। সরকার জানাল ২ শতাংশ করে সুদ দিতে হবে। যেন আসমান ভেঙে পড়ল মালিকদের মাথায়। নানা অজুহাতে রাস্তায় নামিয়ে দিলেন শ্রমিকদের। এই যাত্রায় তাঁরা সফল।

সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে নিম্নবিত্ত মানুষকে ত্রাণ দিতে। এক দল মানুষ গাজীপুরের একটি ত্রাণবাহী গাড়ি লুট করল। দেশে এখনো দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়নি যে ত্রাণের গাড়ি লুট করতে হবে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে সরকারি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে পৌনে সাত কোটি মানুষকে। এর মধ্যে বেশ কিছু রিলিফ চোরের ঝুলিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ত্রাণ গেলেও যা প্রকৃত জায়গায় গেছে সেটিও কম নয়। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও প্রচুর ত্রাণ বিলি হচ্ছে। বোঝা গেল, সবই একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। এলাকার এক পরাজিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের চাল-ডাল-তেলসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাঠাল। নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সারা দেশে জনপ্রতিনিধি আছেন প্রায় ৭০ হাজার। শতাধিক মানুষ এসব ত্রাণের জিনিস নিজেরা হজম করার চেষ্টা করল। কয়েকজন ধরা পড়ল। সরকার তাত্ক্ষণিক তাদের দল থেকে বহিষ্কার ও পদচ্যুত করল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলো। কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলো। স্বাভাবিক কারণেই বিভিন্ন মিডিয়ায় এসব সচিত্র সংবাদ হলো। আওয়ামী লীগপন্থী এক উকিল গিয়েছিলেন এমন একজন অভিযুক্ত চোরের পক্ষে মামলা লড়ার জন্য। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এমন সব চোর-বাটপারকে ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করানোর আইন নেই। থাকলে তা-ই করতে বলতাম। মিডিয়াকে চোর-বাটপারদের নিয়ে যেমন ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়, যাঁরা ভালো কাজে নিয়োজিত আছেন তাঁদের নিয়ে তেমন উৎসাহ দেখাতে দেখা যায় না। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। আমি সেটি শেয়ার করলে এক মহিলা পারলে তখনই আমার টুঁটি চেপে ধরেন। বলেন—আপনার পক্ষে চোরদের পক্ষে সাফাই গাওয়া উচিত না। গালাগাল করলেন দুই লাইন। মহিলা বেশ উচ্চশিক্ষিত, আইন পেশায় নিয়োজিত। কী আর করি, তাঁকে আনফ্রেন্ড করতে হলো।

সরকারকে ও দেশের মানুষকে এখন তিন ধরনের ভাইরাসের মোকাবেলা করতে হচ্ছে (বাংলা একাডেমির সাবেক ডিজি জামান ভাইয়ের ওয়াল থেকে নেওয়া)। প্রথম করোনাভাইরাস, দ্বিতীয় চাল চোর আর তৃতীয় অশিক্ষাজনিত সামাজিক ও স্বাস্থ্য অসচেতনতা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গুজব ভাইরাস। ১৮ তারিখ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক হুজুরের জানাজার দৃশ্য দেখে এখন বলা যায়, বাংলাদেশের কেয়ামত নজদিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুজন হুজুর আছে বলে শুনেছি। এ দুই হুজুরের অনুসারীদের মধ্যে আগে নিয়মিত বিরতিতে দিনের বেলা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ হতো। একবার আমি একটি যুদ্ধের মাঝে পড়ে এক ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেবার উভয় পক্ষ মিলে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছিল। সেখানে প্রতি সপ্তাহে দুই গ্রামের মধ্যে টেঁটা-বল্লম নিয়ে দিনের বেলা যুদ্ধ হয়। পুলিশ সেখানে অসহায় নীরব দর্শক। এ তো গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কথা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন স্বঘোষিত পণ্ডিত শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তিনি যেন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে কয়েক লাখ মানুষের জমায়েতের ব্যবস্থা করে একজন নির্দিষ্ট হুজুরকে দিয়ে এক বিশেষ মোনাজাতের ব্যবস্থা করেন; তাহলে করোনা চলে যাবে!

দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে একটি বড় ব্রহ্মাস্ত্র হচ্ছে গুজব। জামায়াত দেশে এবং দেশের বাইরে তার জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট করেছে। গুজবের কোনো সীমা নেই। সেনাবাহিনীর প্রধান দ্বারা প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল নির্মাণ। আফ্রিকার দেশ ঘানার একটি পত্রিকার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পোস্ট দেওয়া হয়েছে, ‘বাংলাদেশ করোনাযুদ্ধে পরাজিত হয়ে গেছে’। এই ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জনৈক নির্মলা সাহা একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে এক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছেন। দুই মাস আগে কিশোরগঞ্জ থেকে সপরিবারে কাজের সন্ধানে সাভারে এসেছিলেন সাথী আকতার। কয়েক দিন আগে একাধিক মিডিয়ায় এই বলে সংবাদ প্রকাশিত হলো, লকডাউনের কারণে সন্তানের জন্য দুধ কিনতে এই মহিলা চুল বিক্রি করেছেন, যা মোটেও সত্য নয়। সাথী আকতাররা কি এই সময়ের বাসন্তী? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. ইউনুস মিয়া শ দুয়েক ভাড়া করা মানুষ নিয়ে উপজেলা অফিসের সামনে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন, যেখানে ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আর কত উপবাস থাকব, ভাত দে’। এটা কি ‘ভাত দে হারামজাদা’র নতুন সংস্করণ? এসবের সঙ্গে কিছু আর্মচেয়ার বামপন্থীও যোগ দিয়েছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লিখেছেন, ‘ডাক্তার আক্রান্ত, নার্স আক্রান্ত, পুলিশ আক্রান্ত; দেখি এখন শেখ হাসিনা কিভাবে দেশ চালায়।’ একটি বামপন্থী দৈনিক খবর ছাপল, ভারত থেকে করোনা সামলাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী আসছে, যা ছিল ডাহা মিথ্যা, উসকানিমূলক গুজব। এসব ভাইরাসের সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের নিষ্কর্মা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনে থাকা অধিদপ্তর। এই মন্ত্রণালয়টি বহুদিন ধরে মারাত্মক দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ তা সবাই জানে। তবে এই মুহূর্তে তা সব সীমা ছাড়িয়েছে। কারা এই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন তা কি সরকার জানে না? তার পরও তাঁদের ওখানে কেন থাকতে হবে তা কোটি টাকার প্রশ্ন। ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য সরকার প্রতিটি জেলায় একজন আমলাকে দায়িত্ব দিয়েছে। বুঝতে বাকি থাকে না, বাস্তব কারণেই প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিবিদদের ওপর বিরক্ত। তবে এই আমলারা কতটুকু সফল হবেন তা দেখার বিষয়। সব শেষে বলি, বর্তমান ক্রান্তিকালের যুদ্ধে শেখ হাসিনা একাই লড়ে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। আল্লাহ তাঁর পাশে থাকুন।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

You Might Also Like