হোম » কোনো দলের উৎপীড়ককে সংখ্যালঘুরা ভোট দেবে না : রানা দাশগুপ্ত

কোনো দলের উৎপীড়ককে সংখ্যালঘুরা ভোট দেবে না : রানা দাশগুপ্ত

admin- Thursday, October 5th, 2017

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত প্রথম আলো’র সঙ্গে  কথা বলেছেন আগামী নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে। l সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সোহরাব হাসান

প্রশ্ন: শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষলগ্নে বলুন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কেমন আছে?

রানা দাশগুপ্ত: আমি বলব, সার্বিক বিচারে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা ভালো নেই। তাদের মধ্যে হতাশা ও আস্থাহীনতা আছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা গভীর শঙ্কায় আছে। অস্তিত্বের সংকট তাদের তাড়িত করছে। দুঃখজনক হলেও এটি সত্য।

প্রশ্ন: কিন্তু এবার তো উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা দুর্গোৎসব পালন করছে। পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।

রানা দাশগুপ্ত: আশাহত মানুষও জীবনে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করে। মনের বেদনা এক পাশে রেখে তারা আনন্দ–উৎসবে অংশ নেয়। পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ার কারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে সচ্ছল। তা ছাড়া পাড়া-মহল্লার বাসিন্দাদের বিরোধের কারণেও অনেক সময় আলাদা পূজামণ্ডপ করা হয়। আশার কথা, এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও কমেছে। আগে পূজার এক মাস আগে থেকে প্রায় প্রতিদিন সাত-আটটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটত। এবার গত ১৫ দিনে ৮ থেকে ১২টি অঘটনের খবর পেয়েছি। আমার ধারণা, পূজার্থী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের সতর্কতার কারণে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা ভালো অবস্থায় আছে।

প্রশ্ন: কেন নেই, এর জন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন?

রানা দাশগুপ্ত: বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ এর জন্য দায়ী নয়। দায়ী হলো যাঁরা রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার আবরণে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহার করেন। সংবিধান শুধু রাষ্ট্রের দলিল নয়, একটি সামাজিক চুক্তিও। সেই চুক্তিতে সব ধর্মের ও বর্ণের মানুষের সম-অধিকার নিশ্চিত করা না হলে সেই রাষ্ট্রকে আমরা গণতান্ত্রিক বলতে পারি না। দেশের সব নাগরিক সম-অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করবে, সেটাই ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বাংলাদেশ যদি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হবে, তাহলে সংখ্যালঘুরা দেশ ত্যাগ করছে কেন? ১৯৪৭ সালে যেখানে সংখ্যালঘুর সংখ্যা ছিল ৩০ শতাংশ, সেখানে এখন ১১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি যখন সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস কিংবা মেলবন্ধন সৃষ্টি করে, তখন আমরা হতাশ না হয়ে পারি না।

প্রশ্ন: সংখ্যালঘুদের নামে দুটি দলের আবির্ভাব ঘটেছে। এরা কারা?

রানা দাশগুপ্ত: মিঠুন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশ জনতা পার্টি নামের একটি দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই নামের কোনো ব্যক্তিকে আমি চিনি না। সামাজিক গণমাধ্যমে হিন্দুত্ববাদের যে প্রচারণা চলেছে, তার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে কি না, তা-ও জানা নেই। তবে এর পেছনে সুপন বসু নামে যদি কারও যোগাযোগ থাকে, সেটি ভয়ের কারণ। কেননা, এই সুপন বসুই বাংলাদেশের একজন রাজনীতিকের সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তার বৈঠক করিয়ে দিয়েছিলেন। ভারতের একটি মোবাইল নম্বর থেকে সুপন বসু পরিচয় দিয়ে আমাকে হুমকি দিয়েছেন। আমি বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আর বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির ঘোষণাকারীদের সাবেক নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক জাতীয় হিন্দু মহাজোট করেছিলেন। তাঁকে দেখেছি জামায়াতের সাবেক আমির ও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম বিএনপি আমলে যখন গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পান, তখন তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে। আমরা বলেছি, সাম্প্রদায়িকতাবাদকে সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে ঠেকানো যায় না। আগেও সংখ্যালঘুদের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল।

প্রশ্ন: আপনারা জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসনের দাবি জানিয়েছিলেন। সাড়া পেয়েছেন কি?

রানা দাশগুপ্ত: ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করে সাত দফা দাবি পেশ করি। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে বলেছি, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসহ সংসদে সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দিতে হবে। নির্বাচনের আগে-পরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আর নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেন কেউ নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করতে না পারে। সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ ছড়ালে যেন তার প্রার্থিতা বাতিল এবং কমপক্ষে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে আইন করা হয়। আমরা বলেছি, আগামী নির্বাচনের আগেই সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হোক। সমতলের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জন্য ভূমি কমিশন গঠন ও পার্বত্য চুক্তি পুরো বাস্তবায়ন করা হোক। এই সাত দফা নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সঙ্গে কথা বলেছি। অন্যান্য দল ও জোটের কাছেও যাব। তবে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক কোনো দলের সঙ্গে বসব না। তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের সংগ্রাম। এরশাদ সাহেব সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রশ্ন: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের বাস্তবায়ন আটকে আছে কেন?

রানা দাশগুপ্ত: আমি বলব, এ জন্য আইন মন্ত্রণালয় দায়ী। ‘খ’ তফসিল বাতিল করা হয়েছে। ‘ক’ তফসিলের অধীনে আদালতে যেসব মামলা করা হয়েছিল, সেগুলো চলছে ধীরগতিতে। মামলাগুলো জেলা আদালতে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় পরিপত্র পাঠিয়ে বলেছে, উচ্চ আদালতে রিট করা যাবে। ১৫ দিন আগে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধনের কথা বলেছিলেন। আজ পর্যন্ত হয়নি। অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধারে আমাদের এই সংগ্রাম কয়েক দশকের। জিয়াউর রহমানের আমলে অর্পিত সম্পত্তি কথিত ডিজার্ভিং( উপযুক্ত) লোকদের ইজারা দেওয়ার জন্য পরিপত্র জারি করলে ব্যাপক হারে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর ও জমি বেহাত হতে থাকে। এর প্রতিবাদে বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে আমরা শত্রু সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটি করি।

প্রশ্ন: ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি দখল করছেন বলে ঐক্য পরিষদের অভিযোগ। উদাহরণ দিতে পারবেন কি?

রানা দাশগুপ্ত: ১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ২০০৮ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এল, তখন আমরা ভেবেছিলাম সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার–নির্যাতন বন্ধ হবে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, বাড়ি ও জমি দখলের অনেক ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালীর একজন সাংসদের লোকজন অনন্ত মুখার্জি নামে এক সংখ্যালঘুর বাড়িঘরে হামলা ও তাঁকে মারধর করে। ৩৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হলে একজন গ্রেপ্তারও হয়।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের আমলে রামু, নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জ ঘটনায় কারও বিচার হয়েছে?

রানা দাশগুপ্ত: না, হয়নি। এখানেও দায়মুক্তির সংস্কৃতি লক্ষ করছি। রামুর ঘটনায় প্রশাসন যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে বলা হয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মিলেই এ কাজ করেছেন। কিন্তু অভিযোগপত্রে ক্ষমতাসীন দলের কারও নাম নেই। মামলাও এগোচ্ছে না। নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে সংঘবদ্ধ হামলা হলো। অথচ স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করেননি। এমনকি ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত আমলের সহিংসতারও বিচার হয়নি। সাহাবুদ্দীন কমিশনপাঁচ হাজার ঘটনার উল্লেখ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের সুপারিশ করেছিল, যাঁর মধ্যে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-নেতারাও ছিলেন। কমিশনের রিপোর্টের পর তিনজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন। সবাই মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন। বিচার করেননি।

প্রশ্ন: তাহলে কি প্রতিকারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন?

রানা দাশগুপ্ত: আমরা বলেছি, যে দলেরই হোক না কেন, যারা সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করেছে কিংবা নির্যাতনে ইন্ধন দিয়েছে; সংখ্যালঘুরা তাদের ভোট দেবে না। প্রয়োজনে সেই এলাকায় নির্বাচন বর্জন করবে। বিভিন্ন স্থানীয় সরকারসংস্থারনির্বাচনে ভোটের হার দেখুন। আগে যেখানে ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার কেন্দ্রে যেতেন, এখন তাঁদের উপস্থিতির হার অনেক কম। গাজীপুর কিংবা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনেও সংখ্যালঘু ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। তবে নারায়ণগঞ্জ ব্যতিক্রম। সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীর অবস্থান ছিল সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। সেলিনা হায়াৎ আইভী শুরু থেকেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন আক্রান্ত হওয়া শিক্ষক শ্যামল কান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

প্রশ্ন: সংখ্যালঘুদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব গড়ে না ওঠার কারণ কী?

রানা দাশগুপ্ত l পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক নেতারা ছিলেন আদর্শের প্রতীক। তখন মতান্তর থাকলেও লাঠি-ছুরি নিয়ে একজন আরেকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েননি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও কে কোন ধর্মের, তা দেখা হতো না। আমরা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক দলে আদর্শবাদী লোকের সংখ্যা কমে গেছে। কালোটাকা, মাস্তানি ও পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এই পরিবেশে সংখ্যালঘু ও নারী নেতৃত্ব গড়ে ওঠা কঠিন। উদ্বেগের দিক হলো সংখ্যালঘুরা রাজনীতিতে না এসে এখন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনে সক্রিয় হচ্ছে।

প্রশ্ন: অভিযোগ আছে, বর্তমান সরকারের আমলে যোগ্যতা কম থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘুদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে।

রানা দাশগুপ্ত: এটি একধরনের অপপ্রচার। পাকিস্তান আমল থেকেই সংখ্যালঘুরা নানাভাবে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। পঁচাত্তরের পর সামরিক শাসকেরা পাকিস্তানি ধারায় চলেছেন। যোগ্যতা-দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে গত ছয়-সাত বছরে সংখ্যালঘুরা জনপ্রশাসনে যদি কিছু দায়িত্বপূর্ণ পদ পেয়ে থাকেন, সেটি পেয়েছেন দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই। যখন প্রধান বিচারপতি পদে এস কে সিনহা নিয়োগ পান, তখনই একটি মহল অপপ্রচার চালিয়েছে। আওয়ামী ওলামা লীগ মানববন্ধন করে বলেছে, ‘৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে হিন্দু প্রধান বিচারপতি থাকতে পারবেন না।’

প্রশ্ন: মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে গণহত্যা ও জাতিগত নিপীড়ন চলছে, এখানে সংখ্যালঘুদের ওপর তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে কি?

রানা দাশগুপ্ত: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলছে, আমরা তীব্র ভাষায় তার নিন্দা করি। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আবার এ–ও সত্য সেখান থেকে যে হিন্দু সংখ্যালঘুরা এসেছেন, তাঁরা বলেছেন কালো মুখোশ ও কালো পোশাক পরা লোকেরা তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, আমরা তা সমর্থন করি। সংকট উত্তরণে ভারত ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সংখ্যালঘু বলেই আমরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের যন্ত্রণা বুঝি। তারা যাতে সসম্মানে দেশে ফিরে যেতে পারে, আমরা সেই দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এখানকার সংখ্যালঘুরা যাতে নির্ভয়ে ও নিরাপদে দেশে থাকতে পারে, তারও নিশ্চয়তা চাইছি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেন্দ্র করে এখানে যাতে কেউ হিংসা ছড়াতে বা অঘটন না ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রথম আলো’ সৌজন্যে