কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধোনির স্ত্রীর বিরুদ্ধে

মেয়ে জিভার সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনির স্ত্রী সাক্ষী সিং

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি হিসেবে ভারতে বেশ নাম ডাক ছিল আম্রপালি গ্রুপের। এক সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু আম্রপালি গ্রুপের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট হস্তান্তরে বিলম্বের অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে সরে দাঁড়ান ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক।

এখানেই শেষ নয়। আম্রপালি গ্রুপের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও ঠকানোর অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছেন ধোনি। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এখনো প্রায় ৪০ কোটি রুপি পান তিনি। কিন্তু এবার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ধোনি ও তার স্ত্রী সাক্ষী সিংয়ের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়। আম্রপালি গ্রুপের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার গ্যাড়াকলে পড়েছে ধোনি-সাক্ষীর কোম্পানি।

আম্রপালি গ্রুপের বিরুদ্ধে টাকা নিয়েও সময়মতো ক্রেতাদের হাতে বাড়ির চাবি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ বহু পুরানো। এই সমস্যা সমাধানে ন্যাশনাল বিল্ডিংস কনস্ট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেডকে (এনবিসিসি) দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আম্রপালির গৃহপ্রকল্পগুলোর দায়িত্ব হাতে নিয়ে সময়মতো শেষ করতে ভারতের সরকারি নির্মাণ সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

এরই মধ্যে জানা গেল চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। ফরেনসিক অডিটর পবন কুমার আগারওয়াল ও রবিন্দ্র ভাটিয়া সুপ্রিমকোর্টকে জানিয়েছেন, ঋতি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড ও মাহি ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে অনৈতিক চুক্তি ছিল আম্রপালির। উল্লেখ্য, ঋতি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড ও মাহি ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক সাক্ষী ও ধোনি।

গেল মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও ইউ ইউ ললিতের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে তদন্ত রিপোর্টে দিয়েছে ফরেনসিক অডিট। তাতে বলা হয়েছে, গৃহপ্রকল্পের ক্রেতাদের টাকা বেআইনিভাবে ঋতি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয়রা মূলত ধোনিকে মাহি ও তার স্ত্রী সাক্ষীকে ঋতি নামে চেনেন। আম্রপালি-মাহি ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন ধোনির স্ত্রী। এ ছাড়া ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আম্রপালির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন ধোনি। কিন্তু ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে দেরি করায় সমালোচনার মুখে পড়েন ধোনি। পরবর্তীতে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

সুপ্রিমকোর্ট আগেই অবশ্য জানিয়েছিলেন, নয়ডার আম্রপালি আবাসন প্রকল্পের টাকা অন্য পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২৩টি কোম্পানি তৈরি করা হয়েছিল। কোম্পানিগুলো তৈরি হয়েছিল অফিসের কাজের লোক, যাদের বিশেষ কোনো উপার্জন নেই এমন লোকদের নামে। এর মধ্যেই রয়েছে মাহি-আম্রপালি এবং আম্রপালি মিডিয়া ডিভিশন প্রাইভেট লিমিটেড।

অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আম্রপালি গ্রুপের কাছ থেকে মোট ৪২.২২ কোটি টাকা পেয়েছে ঋতি। এর মধ্যে স্যাফাইয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছে ৬.৫২ কোটি টাকা। তবে ঋতিকে কেন এত টাকা দেওয়া হয়েছিল তা পরিষ্কার নয়। এ ছাড়া আরও অনেক অনিয়ম রয়েছে। ঋতি ও আম্রপালির মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি মোটেই স্পষ্ট নয়।

You Might Also Like